পার্বত্য বান্দরবানের রুমা উপজেলার পলি রেঞ্জে দিনের নীরবতা যেন রাত নামলেই ভেঙে পড়ে সংঘবদ্ধ কাঠ পাচারকারীদের তৎপরতায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, গভীর রাতে নির্বিচারে গাছ কেটে ভোরের আগেই তা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বনভূমিতে পড়ে থাকছে শুধু গুঁড়ি আর ধ্বংসের চিহ্ন—যা প্রতিদিনের বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি সংগঠিত কার্যক্রম। তাদের দাবি, কার্যকর তদারকি না থাকায় পাচারকারীরা ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
অচল রেঞ্জ অফিস, নেই নিয়মিত কর্মকর্তা উপস্থিতি: সরেজমিনে দেখা গেছে, পলি রেঞ্জ অফিস কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি রেঞ্জার ফারুক আহমদ বাবুলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের ভাষায়, রেঞ্জ অফিস পরিচালিত হচ্ছে “দূর নিয়ন্ত্রণে”, জেলা সদর থেকেই।
একাধিক বাসিন্দা জানান, “মাসের পর মাস কোনো কর্মকর্তাকে এলাকায় দেখা যায় না। বন দেখভালের কেউ না থাকায় গাছ কাটা এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” এ পরিস্থিতিতে বন রক্ষায় মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নজরদারিহীনতায় বাড়ছে কাঠ পাচার: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুমা-বান্দরবান সড়কসংলগ্ন বনাঞ্চল থেকে নিয়মিত গাছ কেটে পাচার করা হচ্ছে। বৈধ পরিবহন অনুমতি (টিপি) ছাড়াই কাঠ পরিবহন, গভীর রাতে ট্রাকযোগে সরবরাহ এবং চেকপোস্ট এড়িয়ে বিকল্প পথ ব্যবহার—এসবই এখন নিয়মিত ঘটনা বলে দাবি এলাকাবাসীর।
তাদের অভিযোগ, একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এই কাজে জড়িত রয়েছে।
‘ভেতরের যোগসাজশ ছাড়া সম্ভব?’—প্রশ্ন স্থানীয়দের নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, কাঠ পরিবহন ও মজুত যাচাইয়ের নামে বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়মিত অর্থ লেনদেন হয়ে থাকে। এ নিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন—“এত বড় পরিসরে গাছ কাটা ও পাচার কি শুধুই চোরাকারবারিদের পক্ষে সম্ভব, নাকি এর পেছনে ভেতরের কারও নীরব সমর্থন রয়েছে?”
যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ডেপুটি রেঞ্জার ফারুক আহমদ বাবুল জানিয়েছেন, তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এলাকাবাসীর মতে, বাস্তব চিত্র ভিন্ন।
বিপন্ন বন ও জীববৈচিত্র্য: পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পলি রেঞ্জের প্রাকৃতিক বনভূমি দ্রুত উজাড় হয়ে পড়বে। এতে জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি হবে।
তদন্তের আশ্বাস: পাল্পউড প্ল্যান্টেশন বিভাগ, বান্দরবানের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু ইউসুফ বলেন, “অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :