গাজীপুর মহানগরীর ৩২নম্বর ওয়ার্ডের গাছা থানাধীন সাক্রাউড়ি এলাকায় তুচ্ছ ঘটনা ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এক ব্যবসায়ীর বসতবাড়িতে ফিল্মি স্টাইলে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুর আনুমানিক ১২টার সময় সংঘটিত এই দুর্ধর্ষ হামলায় নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহকর্তা শফিকুল ইসলাম শান্ত (৪৪) বাদী হয়ে গাছা থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন—তানভীর (৪৫), তাহের (৩৫), সবুজ (২৫), সজীব (২৩), আবুল (৫০), মিনারা (৪৮), সালমা (৪০), জান্নাত (২০) এবং আজাদ (৪৭)। তারা সকলেই গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন স্থানীয় সাক্রাউড়ি এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শফিকুল ইসলাম শান্ত তার ক্রয়কৃত জমিতে বাড়ি নির্মাণ করে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। অভিযুক্তরা ইতিপূর্বে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করলে স্থানীয়ভাবে শালিসের মাধ্যমে তা মীমাংসা হয়। তবে সেই বিরোধের জের ধরে গত ১৮ জুলাই অভিযুক্তরা রামদা, ছেন, চাপাতি, লোহার রড ও সাভলসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনিভাবে শফিকুলের বাড়িতে প্রবেশ করে। তানভীরের হুকুমে হামলাকারীরা মেইন গেট কোপায় এবং টিনের চাল ও বৈদ্যুতিক মিটার ভাঙচুর করে।
বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা শফিকুল ও তার স্ত্রীর ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। অভিযোগে বলা হয়, শফিকুলের স্ত্রীকে মারধর করে পরিধেয় কাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি ঘটায়। এছাড়া তাহের লোহার সাভল দিয়ে জানালার গ্রিলের ফাঁক দিয়ে শফিকুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে সজোরে আঘাত করলে তার বুকের ডান পাশে লেগে রক্তাক্ত জখম হয়। অন্য বিবাদীরাও তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা এবং বেদম মারধর করে। হামলার একপর্যায়ে মিনারা শফিকুলের স্ত্রীর গলা থেকে ২ ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন (যার আনুমানিক মূল্য ২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেয়।
আক্রান্ত পরিবারটি আত্মরক্ষার্থে রুমের দরজা বন্ধ করে দিলে ঘরের জানালা দিয়ে অনবরত ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে শফিকুলের ৬ মাস বয়সী কন্যাসন্তান মাহরুবি আক্তার শশি এবং ৮ মাস বয়সী পুত্রসন্তান মেরাজ ইসলাম শিশির গুরুতর আহত হয়। শুধু তাই নয়, অভিযুক্তরা পরিবারটিকে পুড়িয়ে মারার উদ্দেশ্যে শুকনো কাপড়ে আগুন ধরিয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে ঘরের ভেতর ছুড়ে মারে। এতে খাটের বিছানার চাদর ও কম্বল পুড়ে যায়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা পানি ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ সময় ব্যবসায়ীর স্ত্রী জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে, খবর পেয়ে গাছা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র ফেলে পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রামদা ও লোহার সাভল জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও বর্তমানে অভিযুক্তদের লাগাতার হুমকি এবং প্রাণনাশের ভয়ে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম রাব্বানী বলেন, ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। অপরাধীরা কোনো ছাড় পাবে না। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এসআই নজরুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :