গাজীপুরে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ দুর্ধর্ষ রহিম বাহিনীর চার সদস্য গ্রেপ্তার

শরীফ ওমর টুটুল , গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩ জুলাই, ২০২৬, ০৪:০১ পিএম

গাজীপুরে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ দুর্ধর্ষ রহিম বাহিনীর চার সদস্য গ্রেপ্তার

গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ধীরাশ্রম বুড়ি বটতলা এলাকা থেকে হত্যা, ডাকাতি ও মাদকসহ একাধিক মামলার অভিযুক্ত আসামি রহিম বাহিনীর প্রধান রহিম ও তার তিন সহযোগীকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—গাজীপুর মহানগরীর সদর থানার পশ্চিম ধীরাশ্রম বুড়ি বটতলা এলাকার ইউনুস ডাক্তারের ছেলে (রহিম বাহিনীর প্রধান) আব্দুর রহিম (২৮) ও তার সহোদর ভাই আব্দুর রাব্বি (২২), পশ্চিম সামান্তপুর এলাকার ইমরান হোসেনের ছেলে শান্ত (১৯) এবং ধীরাশ্রম এলাকার আলমগীর হোসেনের ছেলে নাহিদ (৩২)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী রহিমের বিরুদ্ধে গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি, মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। অভিযানের সময় রহিম বাহিনীর প্রধান অভিযুক্ত রহিমের কাছ থেকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও ৩০ পিস কথিত মাদকদ্রব্য ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য তিনজনের প্রত্যেকের হেফাজত থেকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক ব্যবসার সহযোগী হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে, এই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী চক্রটি গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বস্তি নেমে আসে পুরো এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রহিম ও তার ভাই রাব্বির নেতৃত্বে এলাকায় গড়ে উঠেছিল এক আতঙ্কের সাম্রাজ্য। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পেত না। তাদের অন্যতম সহযোগী অপহরণ, হত্যার চেষ্টা মামলায় অভিযুক্ত ইজিবাইকে অস্ত্র, মাদক সরবরাহকারী গাছা থানার বসুরা এলাকার মিলন মিয়ার ছেলে রানা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলে জানা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্তত ছয়জন স্থানীয় ভুক্তভোগীর মধ্যে একজন অভিযোগ করে বলেন, "কিছুদিন আগে রহিম আমার ছেলেকে তিন দিন আটকে রেখে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মারধর করে এবং টাকা দাবি করে। আমি গরিব মানুষ হওয়ায় টাকা দিতে না পারায় আমাকে ধরে নিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে বাড়িতে গিয়ে যা পেয়েছে, তা নিয়ে গেছে। তাদের বিরুদ্ধে এলাকায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। সবাই তার ভয়ে আতঙ্কে থাকে।"

ভুক্তভোগীরা এই রহিম বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। এ ঘটনায় আমরা এলাকাবাসী সবাই সন্ত্রাসী রহিম বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করব বলে জানায়। আমাদের পাশে থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহায়তা করবে বলে আশাবাদী।

এ বিষয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "রহিম একজন দুর্ধর্ষ অপরাধী। তার বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় হত্যা ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নতুন করে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা [মামলা নং ৪৪(৭)২০২৬] দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।"

Link copied!