চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ধুরুং খালের ভাঙনে বিলীন হতে চলেছে কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রাম। আটারোটিলা বটতলা এলাকার বাইন্যাছোলা সেতুর দক্ষিণ পাশে এই ভাঙন ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেয়া না হলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে এ গ্রামটি। একই সঙ্গে ঝুঁকিতে রয়েছে বাইন্যাছোলা সেতুও। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত পাঁচ বছরে ধাপে ধাপে এই ভাঙনের কারণে অন্তত ২০ কানি কৃষিজমি ও চারটি দোকান খালের গর্ভে বিলীন হয়েছে।বর্তমানে ভাঙন সড়কের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। আর প্রায় ৫০ মিটার ভাঙলেই সড়কটি সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়বে।
স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, ভাঙন কবলিত এলাকার আশপাশে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস।বর্তমানে আজাদীপাড়া ও আটারোটিলা এলাকার অন্তত ৮০টি পরিবার সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ফটিকছড়ি উপজেলার সঙ্গে খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়ি উপজেলার যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল গনী বাদশা বলেন, “আমাদের বাঁচান, কৃষকদের বাঁচান। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ব। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানিয়েছি।” আরেক বাসিন্দা আব্দুল হালিম বলেন, একসময় এটি ছিল পুরোনো চমুরহাট এলাকা। সেখানে অনেক দোকানপাট ছিল। ইতোমধ্যে প্রায় পাঁচ বিঘা জমি খালের গর্ভে চলে গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও প্রায় ১০ বিঘা জমি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষক সোলাইমান ও শফিউল আলম বলেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে ছোট পরিসরে ভাঙন শুরু হলেও এখন তা ভয়াবহ আকারে রূপ নিয়েছে। প্রতি বর্ষায় ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে। কৃষিজমি হারিয়ে অনেক পরিবার জীবিকা সংকটেও পড়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রমজান আলী বলেন, একসময় খালটি সড়ক থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে ছিল। বছরের পর বছর ভাঙতে ভাঙতে এখন রাস্তার পাশ পর্যন্ত চলে এসেছে। তাঁর নিজেরও তিন কানি কৃষিজমি ও একটি দোকান খালের গর্ভে বিলীন হয়েছে। তিনি কৃষকদের রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা কপিল উদ্দীন বলেন, বর্তমান ভাঙনের গতিতে আর কিছুদিনের মধ্যেই সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তখন পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।কাঞ্চননগর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মুজাম্মেল হক তালুকদার বলেন, ফটিকছড়ি ও লক্ষীছড়ির মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগে খালটি উত্তর পাশে ছিল। পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোত এখন এপাশে আঘাত করায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। তিনি দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ধুরুং নদীর ভাঙনকবলিত এলাকার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী সোহাগ তালুকদার বলেন, সংস্থাটির প্রতিনিধি ও সার্ভেয়ার দল ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পরিমাপ সম্পন্ন করেছে। মানিকপুর এলাকায় ধুরুং নদীর প্রায় ১৩০ মিটার ঝুঁকিপূর্ণ অংশ মেরামতের জন্য ২০২৬ু২৭ অর্থবছরের বাজেট চাওয়া হবে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও এখনো কার্যকর স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও নদীশাসনের উদ্যোগ না নিলে কৃষিজমি, বসতবাড়ি, বাইন্যাছোলা সেতু এবং ফটিকছড়ি-লক্ষীছড়ি সড়ক, সবকিছুই মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।

আপনার মতামত লিখুন :