সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতাই পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার মূল শক্তি : চসিক মেয়র

06 মো: সাইফুদ্দিন চৌধুরী জুয়েল , উপ-সম্পাদক

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই, ২০২৬, ০২:২৫ পিএম

  সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতাই পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার মূল শক্তি  : চসিক মেয়র

ফাইল ফটো

সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও সক্রিয় অংশগ্রহণই একটি পরিচ্ছন্ন, ডেঙ্গুমুক্ত, সবুজ ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তোলার মূল শক্তি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়; এটি একটি জীবনাচরণ। তাই প্রতি শনিবার নিজের বাসা, ছাদ, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি পরিবার ও বিদ্যালয় থেকেই শুরু করতে হবে।

মেয়র আজ  জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রামের উদ্যোগে "পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম" প্রতিপাদ্যে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‍্যালিতে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন মেয়র বলেন,  একটি সমাজ বা রাষ্ট্রের ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয়  ব্যক্তি ও পরিবার থেকে। তাই প্রতিটি নাগরিক যদি সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজের বাসা, আঙিনা, ছাদ ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তোলেন, তাহলে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তোলা অনেক সহজ হবে। তিনি বলেন, সরকারি সংস্থার একার পক্ষে নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়,এজন্য প্রয়োজন সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ

মেয়র আরো বলেন, পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস শিশুদের মধ্যে গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের স্কুলগুলোতে 'স্কুল হেলথ স্কিম' চালু করা হয়েছে এবং এর আওতায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস তৈরি এবং পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে।ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম নগরে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ২০০ মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপন্ন হলেও সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ২০০ মেট্রিক টন। অবশিষ্ট প্রায় ১ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য বিভিন্নভাবে খাল, নালা ও উন্মুক্ত স্থানে ফেলে দেওয়া হচ্ছে, যা জলাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণ এবং কর্ণফুলী ও হালদা নদীর জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। এসময় তিনি যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার প্রবণতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং নাগরিক দায়িত্ববোধ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মেয়র বলেন, এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে মাত্র ২ থেকে ৩ মিলিলিটার স্বচ্ছ পানিই যথেষ্ট। তাই ছাদ, ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা যেকোনো স্থানে তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। তিনি জানান, চলতি বছরের ২১ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরে ২২৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে উপজেলাগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মেয়র আরো বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি "ক্লিন, গ্রিন, হেলদি অ্যান্ড সেফ সিটি" গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে নগরজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১১টির কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি নাগরিক অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি আধুনিক ডিজিটাল অ্যাপ চালু করা হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস, বিদ্যুৎ ও গ্রিন ডিজেল উৎপাদনের লক্ষ্যে কোরিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও জাপানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। এছাড়া হালিশহর ও আরেফিন নগরের ল্যান্ডফিলকে পরিবেশবান্ধব রূপ দিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে নগরের ২০টি ওয়ার্ডে বিনামূল্যে ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন,চট্টগ্রামকে একটি নান্দনিক জেলায় রূপান্তরের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন আজকে ২৫শে জুলাই সারা জেলাব্যাপী এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানে জেলা প্রশাসনের সাথে চসিক মেয়র , সিডিএ চেয়ারম্যান, বিভাগীয় কমিশনার , ডিআইজি মহোদয়, পুলিশ কমিশনার মহোদয় ও এসপি মহোদয়সহ সকল দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তারা একত্রিত হয়েছেন।

অভিযানের বিস্তৃতি ও কৌশলগত রূপরেখা তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, এ পর্যন্ত জেলাতে মোট ১৩১টি দপ্তরের ৪১৬টি ভবন, ৮টি আবাসিক এলাকার ১০৮টি ভবন, ৪০৬টি উপজেলা লেভেলের ভবন এবং ২২৯৫টি স্কুলে এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ভবনগুলোর ছাদ ও আঙিনায় এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম মাসব্যাপী চলবে। আমরা প্রতিদিন এবং প্রতি শনিবার কি পরিমাণে ময়লা সেখান থেকে আসলো এবং সংগ্রহ করা হলো, সেই তথ্যসহ ভবনের আগের ও পরের চিত্র সংগ্রহ করছি। সেভাবেই কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মোঃ মনিরুজ্জামান, সিএমপি কমিশনার হাসান মোঃ শওকত আলী, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম (বিপিএম)-সহ জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীবৃন্দ, পরিবেশবাদী এনজিওর প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সিয়াম সরিষা
Link copied!