নাবালিকাকে নিয়ে পালানোর অভিযোগে আটক যুবককে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ গাছা থানার বিরুদ্ধে

শরীফ ওমর টুটুল , গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই, ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম

নাবালিকাকে নিয়ে পালানোর অভিযোগে আটক যুবককে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ গাছা থানার বিরুদ্ধে

গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানা এলাকায় এক অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে আটক করা যুবককে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গাছা থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। মেয়ের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে খাইলকুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই যুবককে আটক ও মেয়েটিকে উদ্ধার করা হলেও পরবর্তীতে উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, শনিবার গাছা থানার এসআই মিজানুর রহমান মেয়ের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করেন এবং ভেলমন্ট গার্মেন্টস সুপারভাইজার মাহবুব আলম (২৩) নামে এক যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।থানায় নেওয়ার পর মাহবুব আলম দাবি করেন, তিনি ও একই গার্মেন্টস কর্মরত ওই তরুণী গাজীপুর মহানগরীর ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার একটি কাজী অফিসে বিয়ে করেছেন। বিষয়টি যাচাই করতে এসআই মিজানুর রহমান সংশ্লিষ্ট কাজী ইদ্রিস আলীকে বিয়ের রেজিস্ট্রেশনের ভলিউম বইসহ থানায় উপস্থিত হতে বলেন।

এ বিষয়ে কাজী ইদ্রিস আলী জানান, বিয়ের সময় কনের পক্ষ থেকে যে জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়েছিল, সেটি পরে ভুয়া ও অফলাইনে সম্পাদিত (এডিট করা) বলে জানা যায়। তিনি বলেন, জন্মনিবন্ধনটি অফলাইন হওয়ায় তাৎক্ষণিক যাচাই করার সুযোগ আমার ছিল না। কনে জানিয়েছিল তার বয়স ১৯ বছর এবং অভিভাবক দেশের বাড়িতে থাকায় স্বজনদের উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন করতে অনুরোধ করে। পরে এসআই মিজানুর রহমানের মাধ্যমে জানতে পারি, মেয়ের বয়স ১৫ বছর আর ছেলের আগেই স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে এবং বিয়ের ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে থানা থেকে আমাকে ফোন করে তালাক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বলা হলে আমি তা করেছি।

আটক মাহবুব আলম ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া থানার বাকতা গ্রামের মৃত দুলাল মিয়ার ছেলে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছেলেপক্ষের এক মধ্যস্থতাকারী বলেন, "আমাদের সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। বুঝেন-ই-তো ভাই, অভিযোগ তদন্ত করতে ও খরচ দিতে হয়। সবকিছু ম্যানেজ করেই বিষয়টির মীমাংসা হয়েছে।" তিনি সাংবাদিককে ‘মিষ্টি খাওয়ার’ জন্য সম্মানী দেওয়ারও প্রস্তাব দেন।

গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম রাব্বানী দৈনিক প্রতিদিনের কাগজকে বলেন, "মেয়ের পরিবার কোনো মামলা করতে রাজি হয়নি। মেয়েটি অবিবাহিত হওয়ায় তাকে ভবিষ্যতে বিয়ে-শাদী দিতে হবে, তার বাবার অনুরোধে উভয় পক্ষের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ না থাকায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে ছেলেকে তার অভিভাবকের কাছে এবং মেয়েকে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।"

Link copied!