দুই ভাই একদিন জীবিকার তাগিদে স্বপ্ন বুকে নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন সুদূর সৌদি আরবে, তারা আর জীবিত ফিরে এলেন না। ফিরলেন দুটি নিথর দেহ হয়ে। তাদের অপেক্ষায় থাকা মা-বাবা, স্বজন আর গ্রামের মানুষের চোখে তখন শুধু অশ্রু আর দীর্ঘশ্বাস। লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার কামারহাট এলাকায় মঙ্গলবার যেন নেমে এসেছিল এক গভীর শোকের ছায়া।
মঙ্গলবার (আজ) সকাল ১১টায় কামারহাট বাজারের ঈদগাহ মাঠে সৌদি প্রবাসী দুই সহোদর ভাই সজীব ও সুজনের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় হাজারো মুসল্লির ঢল নামে। স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মী, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সর্বস্তরের মানুষ তাদের শেষ বিদায়ে অংশ নেন।
জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দুই ভাইকে দাফন করা হয়। একসঙ্গে বড় হওয়া, একসঙ্গে বিদেশে যাওয়া-শেষ পর্যন্ত একই দিনে, একই মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন দুই সহোদর। সেই হৃদয়বিদারক দৃশ্য উপস্থিত অনেককেই অশ্রুসিক্ত করে তোলে।
জানাজা শেষে উপস্থিত মুসল্লিরা মরহুম দুই ভাইয়ের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে বিশেষ দোয়া করেন। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। পরিবারের সদস্যদের আহাজারি আর স্বজনদের কান্নায় পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
জানা যায়, গত ১৫ জুলাই দিবাগত রাতে সৌদি আরবের রিয়াদে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল নিয়ে ফেরার পথে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সজীব ও সুজন নিহত হন। দীর্ঘ আইনি ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার রাত প্রায় ১০টার দিকে তাদের মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। রাতভর স্বজন ও এলাকাবাসী শেষবারের মতো তাদের মুখ দেখতে ভিড় করেন।
প্রবাস জীবনের কষ্ট সহ্য করে পরিবারকে সুখী করার যে স্বপ্ন নিয়ে দুই ভাই বিদেশে গিয়েছিলেন, সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। তাদের অকাল মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো কামারহাট এলাকার মানুষের হৃদয়ে গভীর শোকের দাগ কেটে গেছে।
দুই ভাইয়ের এই করুণ বিদায় যেন আবারও মনে করিয়ে দেয়-প্রবাসে রুটি-রুজির সংগ্রামের আড়ালেও লুকিয়ে থাকে অনিশ্চয়তা আর জীবনের নির্মম বাস্তবতা। আজ কামারহাটের বাতাসে তাই শুধু একটাই প্রার্থনা-মহান আল্লাহ যেন মরহুম সজীব ও সুজনকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং তাদের শোকাহত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দান করেন। আমিন।

আপনার মতামত লিখুন :