দেশজুড়ে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে এবং মানুষকে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাসে উদ্বুদ্ধ করতে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণ শিক্ষক ও পরিবেশকর্মী ফাহিম মুনতাসির। দেশের সর্বদক্ষিণের টেকনাফ থেকে সর্বউত্তরের তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রায় এক হাজার কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করছেন তিনি। গত ১০ জুলাই শুরু হওয়া এই পদযাত্রায় প্রথমে তিনজন অংশ নিলেও বর্তমানে একাই পথ চলছেন ফাহিম।
দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) তিনি নীলফামারী অতিক্রম করে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার উদ্দেশে রওনা হন। ফাহিম জানান, এই পদযাত্রার উদ্দেশ্য কোনো রেকর্ড গড়া নয়। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে হাঁটার গুরুত্ব তুলে ধরা, ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। তাঁর মতে, নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে উঠলে একদিকে যেমন মানুষ সুস্থ থাকবে, অন্যদিকে জ্বালানির ব্যবহার ও কার্বন নিঃসরণ কমে পরিবেশও উপকৃত হবে।
নীলফামারীতে অবস্থানকালে তিনি বলেন, নির্বিচারে গাছ কাটা, জলাশয় ভরাট, পাখি ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস এবং জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করছে। পরিবেশ রক্ষায় আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বাসিন্দা ফাহিম মুনতাসির বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে বর্তমানে একটি বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতা করছেন। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরেই পরিবেশ সংরক্ষণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি।
নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত এই পদযাত্রায় তিনি পথের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন এবং পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন। তাঁর বিশ্বাস, একজন মানুষও যদি এই উদ্যোগ দেখে পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হন, তাহলেই তাঁর এই দীর্ঘ পথচলা সফল হবে।

আপনার মতামত লিখুন :