মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া উপকূলে একটি রোহিঙ্গাবাহী ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ট্রলারের মাঝিমাল্লাসহ আরও ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
শুক্রবার সকাল প্রায় ৬টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌকাঘাটসংলগ্ন বঙ্গোপসাগর উপকূলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া ১৮ জনকে পরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানান, মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ)-এর মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে একদল রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। এ সময় তাদের বহনকারী ট্রলারটি শাহপরীরদ্বীপ উপকূলে ডুবে যায়। পরে স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে জীবিতদের উদ্ধার করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেন।
স্থানীয় জেলে মো. ইসমাইল বলেন, “ভোরে ২৭ জন আরোহী নিয়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। আমরা ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। বাকি ৯ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো নারী বা শিশু নেই।” তিনি আরও দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা মিয়ানমারে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করছিলেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ফিরে আসার চেষ্টা করছিলেন।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের অনেকে আগে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করতেন। পরবর্তীতে তারা মিয়ানমারে চলে যান এবং আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তারা পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। তবে বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন।
টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, “শাহপরীরদ্বীপ এলাকায় একটি রোহিঙ্গাবাহী ট্রলারডুবির ঘটনায় ১৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে বিজিবির হেফাজতে রয়েছে। তাদের পরিচয়, বাংলাদেশে প্রবেশের উদ্দেশ্য এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।”
উল্লেখ্য, বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ নিবন্ধিত রোহিঙ্গা বসবাস করছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর রাখাইন রাজ্যে ব্যাপক সহিংসতার মুখে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

আপনার মতামত লিখুন :