কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে তালাকপ্রাপ্ত এক নারীর ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সুনামগঞ্জ থেকে তিন নারীকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে গ্রেপ্তার হওয়া তিন নারীকে কিশোরগঞ্জ জেলা বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার শান্তিগঞ্জ থানার পিঠাপই গ্রামের রিমা বেগম (২৪), আকলিমা বেগম (২২) ও শাপলা বেগম (৩২)। তারা মামলার প্রধান আসামি জামাল হোসেনের (৩৭) বোন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রধান আসামি জামাল হোসেন বর্তমানে প্রবাসে (গ্রিসে) অবস্থান করছেন।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী জামাল হোসেনের সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর বিয়ে হয়। পারিবারিক কলহের জেরে চলতি বছরের ১২ মে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিচ্ছেদের পর দাম্পত্য জীবনের সময় গোপনে সংরক্ষণ করা ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ কিছু ছবি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। একই সঙ্গে দাবিকৃত অর্থ পরিশোধ না করলে ছবিগুলো ফেসবুক, মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী গত ১৯ জুলাই কিশোরগঞ্জের আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি কুলিয়ারচর থানায় মামলা নম্বর-২০/২০২৬ ও এফআইআর নম্বর-২১/২০২৬ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। মামলাটি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(২) ধারায় রুজু করা হয়েছে। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে কুলিয়ারচর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাররফিন মিয়ার ওপর।
কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলাটি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ার পর এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামি জামাল হোসেন বর্তমানে প্রবাসে (গ্রিসে) অবস্থান করায় তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে নতুন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :