খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোষপাড়ায় মো. শাহাবুদ্দিন মাতুব্বরের বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত আগস্ট মাসে একদল দুর্বৃত্ত তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ সময় ঘরে থাকা নগদ অর্থ, মূল্যবান মালামাল, জমির দলিল, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এবং শিশুদের পড়াশোনার বই নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ গৃহপালিত পশুপাখিও লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগী মো. শাহাবুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “দেশে আইন আছে, বিচার আছে। আমি যদি কোনো অপরাধ করে থাকি, তাহলে আইন আমাকে শাস্তি দেবে, আমি মাথা পেতে নেব। কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আমার বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করার অধিকার নেই। আমার স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে এখন আমি অসহায় অবস্থায় আছি। দুর্বৃত্তরা আমার মাথা গোঁজার ঠাঁই পর্যন্ত ভেঙে দিয়েছে। নগদ অর্থ, জমির দলিল, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এবং আমার সন্তানের পড়াশোনার বই পর্যন্ত নিয়ে গেছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।”
ভুক্তভোগীর ছেলে বলেন, “আমাদের মাথা গোঁজার মতো কোনো ঘর নেই। আমরা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছি। যারা আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আমরা সঠিক বিচার চাই। ভুক্তভোগীর স্ত্রী জয়নাব বেগম বলেন, “আমার পরিবারের সর্বনাশ করে দিয়েছে। যারা আমার ছেলের ঘর ভেঙে লুটপাট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক।”
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় এক প্রভাবশালী শ্রমিক নেতা অভিযোগ করে বলেন, শাহাবুদ্দিন মাতুব্বর অতীতে মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে বর্তমানে তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত আছেন কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তিনি বলেন, “যদি কেউ মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত থাকেন, তাহলে তার বিচার অবশ্যই আইনের মাধ্যমে হওয়া উচিত। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কারও বসতবাড়ি ভাঙচুর বা লুটপাট করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
এ বিষয়ে এক এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, দুই দিন আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এরপর শাহাবুদ্দিনের বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। তার দাবি, এলাকায় শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ছিল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত থাকলে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিয়ে আইনের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করা উচিত। কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে বসতবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট বা হামলার মতো ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিজেই একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ ঘটনায় দৌলতপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মামনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে ওসি মহোদয় অবগত আছেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে। পরে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সচেতন মহলও মনে করছে, কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া নয়, বরং আইনের শাসনের মাধ্যমেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়া উচিত।

আপনার মতামত লিখুন :