‘সেবামূলক বৃদ্ধ নিবাস ট্রাস্ট’ গঠনের মাধ্যমে নিরাপদ আবাসন, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ
‘আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধই গড়ে তুলবে একটি সুন্দর মানবিক সমাজ’—এই প্রত্যয়কে ধারণ করে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নৈতিক দায়িত্ববোধের অংশ হিসেবে প্রবীণদের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় অনুসন্ধানী গণমাধ্যম ‘দ্য ফিন্যান্স টুডে’ পরিবার।
প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শনিবার (৮ আগষ্ট) রাজধানীর ওয়েষ্টন রেস্টুরেন্টে ‘সেবামূলক বৃদ্ধ নিবাস ট্রাস্ট’ গঠনের পর প্রথম মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত পরিসরে আয়োজিত এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথিবৃন্দের সরব উপস্থিতি 'দ্য ফিন্যান্স টুডে'র নতুন পথচলায় অনুপ্রেরণার টনিক জুগিয়েছে। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে একদিকে যেমন ছিলেন বাংলাদেশের গনমাধ্যম জগতে মো: মতিউর রহমানের দীর্ঘদিনের পথচলার সঙ্গী, অভিজ্ঞ ও সিনিয়র সাংবাদিকবৃন্দ; তেমনি উপস্থিত ছিলেন উদীয়মান এবং তরুণ প্রজন্মের গনমাধ্যমকর্মীরাও। অন্যদিকে, মতিউর রহমানের ব্যবসায়ী ও পেশাজীবি বন্ধুদের উপস্থিতিও ছিলো চোখে পড়ার মতো।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও পেশাজীবিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যান্ডনিউ ওয়ার্ল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহা: মনিরুজ্জামান ডানিয়েল, রফিকুল ইসলাম, বাবুল হাওলাদার, হাসান মোল্লা, মো: আহসান হাবিব, বিশিষ্ট গবেষক, লেখক ও পরিবেশবিদ ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা, বিশিষ্ট গবেষক ও প্রোজেক্ট প্রোফাইল কনসাল্টেন্ট আবু মোহাম্মদ হোসেন (মানিক), পরিবেশবিদ ও মাতৃভূমি গ্রুপের উপদেষ্টা বাপ্পি সরদার, আইএফআইসি ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা আবুল কালাম গোমস্তা, প্রফেসর মোহাম্মদ বাবুল মিয়া সহ আরও অনেকেই।
এই মতবিনিময় সভায় আমন্ত্রিত সিনিয়র সাংবাদিকবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ইনকিলাবের বিশেষ প্রতিনিধি সাঈদ আহমেদ খান, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক আনিসউর রহমান আনিস, দৈনিক কালবেলার যুগ্ম সম্পাদক আলাউদ্দিন আরিফ, দৈনিক বঙ্গজননী পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক বীর মুক্তিযোদ্ধা কামরুজ্জামান জিয়া, ওল্ড ঢাকা জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি সালাউদ্দিন মিঠু, ফিরোজ চাষী, দৈনিক সমাবেশের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মোঃ মাসুম, আরটিভির রিপোর্টার আবু তাহের বাপ্পা, জাতীয় খবরের চিফ রিপোর্টার জাকির হোসেন পাটোয়ারী, দৈনিক বর্তমান দিনের সিনিয়র রিপোর্টার হুমায়ুন কবির, দৈনিক গণজাগরণ ও দ্য ক্যাপিটাল নিউজ পত্রিকার প্রধান বার্তা সম্পাদক এমএম রহমাতুল্লাহ, দৈনিক সমাবেশের নির্বাহী সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, দৈনিক কালের ছবি পত্রিকার সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম শিশিরসহ "দ্য ফিন্যান্স টুডে," "দৈনিক বর্তমান দিন" এবং "দ্য ইনভেষ্টর" পরিবারের সদস্যগন।
এই অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সিনিয়র সাংবাদিক, বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ও জাস্টিস এইড হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মহাসচিব মো. মোশাররফ হোসাইন রাজু।
সমাজের প্রবীন জনগোষ্ঠীর সার্বিক মানোন্নয়নের ন্যায় মানবিক এই উদ্যোগের স্বপ্নদ্রষ্টা মো: মতিউর রহমান স্বপরিবারে উপস্থিত থেকে আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বাগত জানান। এসময় তার সাথে ছিলেন স্ত্রী শিউলি খানম, নিকটাত্মীয় মর্জিনা খানম আঙ্গুর, কাজী শ্যামলী, বড় ছেলে কারার তাহাফিফ রাজ এবং মেয়ে জুনাইরা জাহিন নীলাঞ্জনা।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্যে মো মতিউর রহমান আমন্ত্রিত অতিথিদের এই ‘সেবামূলক বৃদ্ধ নিবাস ট্রাস্ট’-এর আওতায় নতুন কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, এটি শুধু একটি সেবামূলক কার্যক্রম নয়; বরং প্রবীণদের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক দায়িত্ব পালনের একটি সম্মিলিত প্রয়াস।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনেক প্রবীণ নাগরিক নানা কারণে পরিবার ও সমাজে অবহেলা, একাকীত্ব ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অর্থনৈতিক সংকট, সন্তানদের ব্যস্ততা, পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা, চিকিৎসার অভাব কিংবা আশ্রয়ের অনিশ্চয়তার কারণে জীবনের শেষ সময়ে অনেক প্রবীণকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই প্রবীণদের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
থাকছে আবাসন, চিকিৎসা ও বিনোদনের সুযোগ
নতুন এই কার্যক্রমের আওতায় প্রবীণদের জন্য নিরাপদ আবাসনের পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার এবং মানসিক প্রশান্তির পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রবীণদের অবসর সময়কে আনন্দময় ও অর্থবহ করে তুলতে ধর্মীয় আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বই পড়া ও বিনোদনের বিভিন্ন সুযোগও রাখা হবে। এর মাধ্যমে তারা যেন নিজেদের একাকী মনে না করেন এবং জীবনের শেষ অধ্যায়টিও আনন্দ ও মর্যাদার সঙ্গে কাটাতে পারেন, সে বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া প্রবীণদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি সম্ভব হলে তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুনর্মিলনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই কাজে ‘দ্য ফিন্যান্স টুডে’ পরিবারের একটি বিশেষ টিম কাজ করবে বলে জানিয়েছেন বৃদ্ধ নিবাস ট্রাস্টের উদ্যোক্তা মো: মতিউর রহমান।
কে এই মতিউর রহমান?
বাংলাদেশের অনুসন্ধানী এবং কর্পোরেট সাংবাদিকতায় সুপরিচিত মুখ 'দ্য ফিন্যান্স টুডে'-এর সম্পাদক এবং প্রকাশক মতিউর রহমান। তিনি 'দ্য ফিন্যান্স টুডে'র পাশাপাশি 'দৈনিক বর্তমান দিন' এবং 'দ্য ইনভেষ্টর' পত্রিকারও সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি যুক্ত রয়েছেন।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে সততা, পেশাদারিত্ব ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে মতিউর রহমান নিজেকে একজন নির্ভরযোগ্য সম্পাদক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার সম্পাদনায় 'দ্য ফিন্যান্স টুডে' দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন, নীতি-নির্ধারণী বিষয় এবং সমসাময়িক ইস্যুতে তথ্যনির্ভর ও বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে পাঠকমহলে বিশেষ আস্থা অর্জন করেছে।
সহকর্মীদের কাছে তিনি একজন দক্ষ সংগঠক, দূরদর্শী সম্পাদক এবং নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য অনুপ্রেরণার নাম। সাংবাদিকতার উৎকর্ষ সাধনে তার নিরলস প্রচেষ্টা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি গণমাধ্যম অঙ্গনে তাকে একটি স্বতন্ত্র অবস্থানে নিয়ে গেছে।
‘প্রবীণরা জাতির বিবেক ও অভিজ্ঞতার প্রতীক’
জনসংখ্যার বার্ধক্যকে অনেক সময় অর্থনৈতিক বোঝা হিসেবে দেখা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। প্রবীণ নাগরিকরা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ধারক। তাঁদের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, সামাজিক মূল্যবোধ, পারিবারিক জ্ঞান ও জীবনবোধ পরবর্তী প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।
ইউএনএফপিএ'র দৃষ্টিতে দীর্ঘায়ু মানবসভ্যতার অন্যতম বড় অর্জন। অর্থনীতিবিদরা এই বাস্তবতাকে ‘সিলভার ইকোনমি’র চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা—দুই দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখেন। কারণ প্রবীণ জনগোষ্ঠী শুধু ব্যয়ের খাত নয়; সঠিক পরিকল্পনা থাকলে তাঁদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও জ্ঞানও জাতীয় উন্নয়নের সম্পদে পরিণত হতে পারে।
এই প্রসঙ্গে ‘দ্য ফিন্যান্স টুডে’-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মো. মতিউর রহমান বলেন, প্রবীণরা আমাদের জাতির বিবেক ও অভিজ্ঞতার প্রতীক। তাদের দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও পরামর্শ নতুন প্রজন্মকে সঠিক পথ দেখাতে পারে।
তিনি বলেন, “প্রবীণদের প্রতি দায়িত্ব পালন করা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়; এটি সমাজেরও দায়িত্ব। সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধ থেকেই ‘সেবামূলক বৃদ্ধ নিবাস ট্রাস্ট’-এর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, জীবনের শেষ সময়ে কোনো প্রবীণ মানুষ যেন অর্থের অভাবে চিকিৎসাবঞ্চিত না হন, নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে কষ্ট না পান কিংবা একাকীত্বে দিন কাটাতে বাধ্য না হন—এই লক্ষ্যেই উদ্যোগটি বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।
সহযোগিতার আহ্বান
এই মহৎ উদ্যোগের সফলতা কামনা করে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আহসান হাবিব বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সম্মিলিত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ‘দ্য ফিন্যান্স টুডে’ পরিবারের মহৎ এই উদ্যোগে অংশ নিতে পেরে আমি নিজেকে গর্বিত মনে করছি। এমন মানবিক উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নের জন্য সমাজের বিত্তবান শ্রেণীকে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, শিল্পগোষ্ঠী, কর্পোরেট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং সর্বোপরি দেশের সাধারণ মানুষ এগিয়ে আসলে একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
তার মতে, প্রবীণরা সমাজের বোঝা নন— তাঁরা একটি জাতির স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও মূল্যবোধের জীবন্ত ধারক। একটি সভ্য সমাজ তার প্রবীণদের প্রতি আচরণের মধ্য দিয়েই নিজের মানবিকতার পরিচয় দেয়।
মতিবিনিময় সভায় মো. মতিউর রহমান বলেন, উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন জীবনের শেষ অধ্যায়টিও নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং সম্মানজনক হয়। সেই দৃষ্টিকোন থেকে আমাদের সমাজের প্রবীণ নাগরিকদের শেষ জীবন যদি নিরাপদ, সম্মানজনক ও আনন্দময় করা যায়, তবে সেটিই হবে একটি সত্যিকারের মানবিক সমাজের পরিচয়।
তিনি আরও বলেন, আজ যাঁদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব, আগামীকাল তাঁদের জায়গায় আমরাই থাকব। তাই প্রবীণদের জন্য বিনিয়োগ মানে শুধু একটি প্রজন্মকে সহায়তা করা নয়—বরং নিজেদের ভবিষ্যৎকে আরও মানবিক ও নিরাপদ করে তোলা।
এদিকে, অনুষ্ঠান চলাকালীন মো. মতিউর রহমানের একমাত্র পুত্র রাজের উৎসুক চাহনিতে প্রবীণ প্রজন্মের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, সম্মান ও ভালোবাসা স্পষ্ট প্রতীয়মাণ হয়। পরে, এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রাজ প্রবীন নাগরিকদের কল্যানে নিজের আগ্রহ ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
তবে, এই অনুষ্ঠানে মো. মতিউর রহমানের একমাত্র কন্যা জুনাইরা জাহিন নীলাঞ্জনার বক্তব্য সভাস্থলে আবেগঘন এক পরিবেশ তৈরি করে। নীলাঞ্জনা তার বাবার এই স্বপ্নকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তা উপস্থিত সকলেরই দৃষ্টি কেড়েছে। এসময় অতিথিদের অনেকেই তার ভূয়সী প্রশংসায় মেতে উঠেন এবং রাজ ও নীলাঞ্জনার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনায় দোয়া করেন।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা মনে করেন, শুধু একটি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের পক্ষে প্রবীণদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সেবাব্যবস্থা গড়ে তোলা কঠিন। এজন্য সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলে এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত পরিসরে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যেখানে কোনো প্রবীণ মানুষ জীবনের শেষ সময়ে নিজেকে একা, অসহায় কিংবা অবহেলিত মনে করবেন না।
মানবিক মূল্যবোধের আন্দোলন
বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক আনিসউর রহমান আনিস বলেন, ‘দ্য ফিন্যান্স টুডে’ পরিবারের এই উদ্যোগ কেবল একটি সেবামূলক কার্যক্রম নয়, এটি সমাজে মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও দায়িত্বশীলতা জাগ্রত করার একটি প্রয়াস।
তিনি বলেন, বার্ধক্যকে সংকট হিসেবে না দেখে একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি। কারণ আজকের কর্মক্ষম মানুষই আগামী দিনের প্রবীণ। তাই প্রবীণদের জন্য এখন যে ব্যবস্থা তৈরি করা হবে, সেটিই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার ভিত্তি তৈরি করবে।
আমন্ত্রিত অতিথিরা বলেন, সারা জীবন যারা পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য অবদান রেখেছেন, জীবনের শেষ সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই প্রবীণদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা, পুষ্টি, বিনোদন ও ভালোবাসাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তারা আশা করছেন, ‘দ্য ফিন্যান্স টুডে’ পরিবারের এই পদক্ষেপ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রবীণদের প্রতি আরও শ্রদ্ধাশীল, সহমর্মী ও দায়িত্ববান হতে অনুপ্রাণিত করবে। একই সঙ্গে সমাজের অন্যান্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও এমন মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে আসবে।
মানবিক সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে তাই বার্তা একটাই—জীবনের শেষ প্রান্তে কোনো প্রবীণ যেন একা না থাকেন, অবহেলায় না থাকেন; বরং ভালোবাসা, সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে কাটুক তাদের জীবনের শেষ অধ্যায়।

আপনার মতামত লিখুন :