বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চপর্যায়ের পদে দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি আটকে আছে। অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) ও উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পর্যায়ে একাধিক পদ শূন্য থাকলেও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত না হওয়ায় পদোন্নতির প্রক্রিয়া এগোচ্ছে না। এর প্রভাব পড়েছে নিচের ধাপের পদোন্নতিতেও।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র জানায়, পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় কর্মজীবনের বিবরণ, বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর), গোয়েন্দা সংস্থার ভেটিংসহ প্রয়োজনীয় নথি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) সভা অনুষ্ঠিত হলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।
পুলিশ অধিদপ্তর সম্প্রতি অতিরিক্ত আইজিপি ও ডিআইজি পদে পদোন্নতির জন্য ১৪ কর্মকর্তার তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, অতিরিক্ত আইজিপি পদে পাঁচজনকে পদোন্নতি দেওয়া হলে সমসংখ্যক ডিআইজি পদ শূন্য হবে। এতে পরবর্তী ধাপে আরও কর্মকর্তার পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হবে এবং দীর্ঘদিনের জট কিছুটা কাটতে পারে।
পুলিশের নিয়মিত ডিআইজি পদের সংখ্যা ৮৭। বর্তমানে ৮২ জন কর্মকর্তা কর্মরত থাকায় পাঁচটি পদ শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত আইজিপি পর্যায়ে গ্রেড-২-এর ২০টি ও গ্রেড-১-এর দুটি পদ রয়েছে। এ পর্যায়েও পাঁচটি পদ শূন্য রয়েছে। পুলিশের ১৭, ১৮ ও ২০ ব্যাচের কয়েকজন কর্মকর্তা বিভিন্ন পর্যায়ের পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন।
সূত্রগুলো বলছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অতিরিক্ত আইজিপি, ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি পর্যায়ের ১৪১ কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হলেও প্রত্যাশিত সংখ্যায় নিয়মিত পদ খালি হয়নি। এর অন্যতম কারণ, আগের সরকারের সময়ে নিয়মিত পদের বাইরে অতিরিক্ত বা সুপারনিউমারারি পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার এসব পদে পদোন্নতি না দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে। এ নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে কাজ চলছে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভের আরেকটি কারণ হলো প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে পদোন্নতির গতির পার্থক্য। প্রশাসন ক্যাডারের বিভিন্ন ব্যাচের কর্মকর্তারা নিয়মিত পদোন্নতি পেলেও পুলিশের সমপর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা একই পদে দীর্ঘদিন আটকে আছেন। পুলিশের ২৫ ব্যাচের কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতির জন্য বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সভাও এখনও হয়নি। একইভাবে ৩০ ব্যাচের অনেক কর্মকর্তা পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতির যোগ্য হলেও অপেক্ষায় রয়েছেন।
দীর্ঘসূত্রতার কারণে কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। তাদের মতে, পদোন্নতি শুধু আর্থিক সুবিধার বিষয় নয়, এটি পেশাগত স্বীকৃতি ও নেতৃত্বের দায়িত্ব পাওয়ারও অংশ। দীর্ঘদিন পদোন্নতি না হলে কর্মপ্রেরণা ও মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা, দক্ষতা, শৃঙ্খলাজনিত রেকর্ড ও বিধিবিধান অনুসরণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। এখন পদোন্নতিপ্রত্যাশীদের মূল অপেক্ষা এসএসবি সভা কবে অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানে কী সিদ্ধান্ত আসে, তার ওপর।

আপনার মতামত লিখুন :