ত্রিশালে চাঞ্চল্যকর মাছ ব্যবসায়ী হত্যা রহস্য উন্মোচন: গ্রেফতার ২, তদন্ত কর্মকর্তা পুরস্কৃত

বিশেষ প্রতিনিধি , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৯ এএম

ত্রিশালে চাঞ্চল্যকর মাছ ব্যবসায়ী হত্যা রহস্য উন্মোচন: গ্রেফতার ২, তদন্ত কর্মকর্তা পুরস্কৃত

ফাইল ফটো

ময়মনসিংহের ত্রিশালে খুচরা মাছ ব্যবসায়ী মোঃ আব্দুল হাই (৬৫)-কে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানার পাকুরিয়া (বাঘুটিয়া) গ্রামের রিজাউল (৩৯) এবং স্থানীয় সেলুন কর্মী অপু ঋষি (২২)। এদের মধ্যে অপু ঋষি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ :  ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ০৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৬:৩০ ঘটিকায় ত্রিশাল থানাধীন আমিরাবাড়ী ইউনিয়নের গুজিয়াম এলাকায় আতিকুল ইসলামের ভাড়া নেওয়া ফার্নিচারের দোকানে দুলাভাই আব্দুল হাইকে ডেকে তুলতে যান তার শ্যালক আতিকুল। ভিতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি স্থানীয় চায়ের দোকানদার আইয়ুব আলীকে বিষয়টি জানান। পরবর্তীতে তারা প্লাস দিয়ে দরজার জিআই তার কেটে ভিতরে প্রবেশ করে দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় খাটের ওপর পড়ে আছেন আব্দুল হাই।​অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা গত ০৯ এপ্রিল সকালের পূর্বে যেকোনো সময় দোকানে অনধিকার প্রবেশ করে আব্দুল হাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথার পেছনে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে এবং বাইরে থেকে দরজা আটকে পালিয়ে যায়।

​চিকিৎসা ও মৃত্যু : স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত আব্দুল হাইকে উদ্ধার করে প্রথমে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) পাঠানো হয়। ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৩ এপ্রিল ২০২৬ দুপুর ১:৩০ ঘটিকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারা যুক্ত করা হয়।

​গ্রেফতার ও স্বীকারোক্তি : হত্যাকাণ্ডের পর আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে সুকৌশলে আত্মগোপনে চলে যান সন্দেহভাজন আসামী 'হকার' রিজাউল। পরবর্তীতে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হাসান ইসরাফিলের দিকনির্দেশনায় এবং পুলিশ পরিদর্শক শেখ গোলাম মোস্তফা রুবেলের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার সাভার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ​গ্রেফতারকৃত রিজাউলকে আদালতের মাধ্যমে ২ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের উত্তর পাশের একটি সেলুনের কর্মী অপু ঋষিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে অপু ঋষি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন।

​পুলিশের সাফল্য ও পুরস্কার : ​চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত আসামিদের গ্রেফতার করে দ্রততম সময়ে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়ায় ত্রিশাল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রুবেলকে পুরস্কৃত করেছেন ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান।

সিয়াম সরিষা
Link copied!