সাভার মডেল থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল আলমকে নিয়ে সম্প্রতি ‘দৈনিক যুগান্তর’, ‘দৈনিক বাংলা বাজার’সহ একাধিক জাতীয় গণমাধ্যমে তথ্যভিত্তিক তিনটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব সংবাদে তাঁর দায়িত্ব পালন ও অতীত ভূমিকা নিয়ে নানা গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে।
সংবাদ প্রকাশের পর তথ্য-উপাত্ত দিয়ে অভিযোগ খণ্ডন করার বদলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওসির পক্ষে সরব হয়েছেন মো. শহিদুল ইসলাম নামে এক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা। নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত অপপ্রচারমূলক ও আক্রমণাত্মক পোস্ট দিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, মো. শহিদুল ইসলাম ও ওসি সাইফুল আলমের বাড়ি পাশাপাশি হওয়ায় তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এবং তাঁর পরিবারকে নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করার অভিযোগ রয়েছে। ২০১৭ সালের ২৩ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত একটি মানববন্ধনে তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন।
পরবর্তীতে এই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশি তদন্তেও ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় আদালতে ইতিমধ্যে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে।
জনাব তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে কটূক্তি করার দায়ে অভিযুক্ত ও চার্জশিটভুক্ত একজন আওয়ামী লীগ নেতা কেন বিতর্কিত ওসির সমর্থনে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হচ্ছেন—তা নিয়ে সচেতন মহল ও সর্বসাধারণের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশিত হলে সেটির জবাব বস্তুনিষ্ঠ তথ্য-প্রমাণ দিয়ে হওয়াই যুক্তিযুক্ত। কিন্তু কোনো তথ্য না দিয়ে উল্টো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ওসি সাইফুল আলমের বিরুদ্ধে ওঠা সার্বিক অভিযোগের সত্যতা বিচারে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিক সমাজ।

আপনার মতামত লিখুন :