মোঃ আব্দুল মান্নান, স্টাফ রিপোর্টার : ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার ‘কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্র’-এর নতুন ডিন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী। এ খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হচ্ছে।
জানা গেছে, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী গত ২১ জুন ২০২৬ ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। পরদিন ২২ জুন থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মাদরাসা পরিদর্শক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১০ আগস্ট তিনি ‘কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্র’-এর ডিন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর সহধর্মিণী উম্মে রুমাইয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রফেসর ড. মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক ও আয়েশা খাতুনের গর্বিত সন্তান। তিনি ১৯৭৪ সালের ১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি অত্যন্ত মেধাবী ও মুআদ্দাব ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর বিনয় নম্রতা ভদ্রতা ও অমায়িক ব্যবহার সবাইকে মুগ্ধ করে।
তিনি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ছারছীনা দারুস সুন্নাত আলিয়া মাদরাসা থেকে ১৯৮৮ সালের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সারাদেশের মেধা তালিকায় ১২তম স্থান অর্জন করেন। আলিম পরীক্ষায় ৯ম স্থান, ফাজিলে প্রথম বিভাগ এবং কামিল পরীক্ষায় ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হন।
পরবর্তীতে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে বিএ (অনার্স) ও এমএ পরীক্ষায় ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হওয়ার পাশাপাশি ফ্যাকাল্টি ফার্স্ট এবং চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল অর্জন করেন। এমফিল ও পিএইচডি গবেষণাতেও তিনি বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।
কর্মজীবনে ১৯৯৯ সালের ১ জুন থেকে ২০০১ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হুগলাডাঙ্গি মোহাম্মদিয়া ইসলামিয়া আলিয়া মাদরাসায় মুফাসসির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০০২ সালের ৮ অক্টোবর পর্যন্ত নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার গগনপুর ওয়াজেদিয়া ফাজিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৩ সালের ১৫ জানুয়ারি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে লেকচারার হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তাঁর শিক্ষকতা জীবন শুরু হয়। ২০০৪ সালের ১১ অক্টোবর অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং ২০১৪ সালের ৩ এপ্রিল প্রফেসর হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। এরপর থেকে তিনি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি গবেষণাতেও রয়েছে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান। বিভিন্ন গবেষণা জার্নালে তাঁর প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে এবং আরও বেশ কিছু প্রবন্ধ চূড়ান্ত প্রকাশের জন্য গৃহীত হয়েছে। প্রকাশিত ও গৃহীত গবেষণাপত্রের সংখ্যা ২১টি। তিনি অগ্রণী ব্যাংক স্কলারশিপ, ইউজিসি স্কলারশিপ ও চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেলসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও বৃত্তি লাভ করেছেন।
২০০৩ সালে তিনি নওগাঁ জেলার শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়ে পুরস্কার ও সনদ অর্জন করেন। এছাড়া এশিয়ান ইউনিভার্সিটির গেস্ট টিচার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৬ সালের ১৩ মার্চ থেকে ২০০৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের হাউজ টিউটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ শিক্ষকতা, গবেষণা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার পর এবার ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্র’-এর ডিন হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করলেন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী।
ব্যক্তি জীবনে তিনি ২ পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক। তাঁর বড় ছেলে তাহসীন বিন রব্বানী কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য বিভাগ হতে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মাস্টার্স ফলপ্রার্থী। দ্বিতীয় সন্তান আফরা আফিফা (রিম) ছাত্রী। তিনি বিবাহিতা। জামাই জাপান প্রবাসী। ছোট ছেলে রাজিন মাহমুদ ৫ম শ্রেণিতে অধ্যায়ণরত।
তাঁর সহধর্মিণী উম্মে রুমাইয়া প্রফেসর ড. মুহাম্মদ গোলাম রব্বানীর সুস্বাস্থ্য, সফলতা এবং নতুন দায়িত্ব সুচারুভাবে পালনের জন্য ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে মহান আল্লাহর তাওফিক কামনা করে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। এছাড়া প্রফেসর ড. মুহাম্মদ গোলাম রব্বানীও ডিন হিসেবে নিয়োগ পেয়ে মহান আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এ গুরু দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের ব্যাপারে সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন :