লিগ্যাল এইডের সহায়তায় কারামুক্তির পথে অনিল কান্তি শীল

নিজস্ব প্রতিবেদক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২২ পিএম

লিগ্যাল এইডের সহায়তায় কারামুক্তির পথে অনিল কান্তি শীল

ফাইল ফটো

প্রায় ছয় বছরের দীর্ঘ কারাবাসের অবসান ঘটতে চলেছে ৭০ বছর বয়সী অনিল কান্তি শীলের। হাইকোর্টের জামিন আদেশে অবশেষে মুক্তির পথে তিনি। এই মুক্তির পেছনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান লিগ্যাল এইড এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম. জিয়াউর রহমান সেলিমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (২৪ আগস্ট) হাইকোর্টের এনেক্স ভবনের ৩ নম্বর আদালতে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তার জামিন মঞ্জুর করেন। লিগ্যাল এইডের পক্ষে অ্যাডভোকেট সেলিমের করা আবেদনের ভিত্তিতেই এই আদেশ দেন আদালত।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের নভেম্বরের শুরুতে অনিল কান্তি শীলকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর দীর্ঘ পাঁচ বছর আট মাস ধরে মামলার কার্যকর কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় কার্যত বিচারহীন অবস্থায় কারাগারেই দিন কাটাতে হয় তাকে।
পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন আদালতে খোঁজ নিয়েও মামলার নির্দিষ্ট অগ্রগতির তথ্য পাননি। হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে সময় পার করছিল পরিবারটি। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে তা লিগ্যাল এইডের নজরে আসে।
এরপর অ্যাডভোকেট এম. জিয়াউর রহমান সেলিম বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তার উদ্যোগেই শুরু হয় আইনি লড়াই, যার ফল হিসেবে আসে বহুল প্রতীক্ষিত জামিনের আদেশ।
অনিল কান্তি শীলের মেয়ে পুষ্পা শীল বলেন, “লিগ্যাল এইড আর সেলিম স্যার না থাকলে হয়তো কোনোদিন বাবাকে ফিরে পেতাম না। আমরা তাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ।”
অ্যাডভোকেট সেলিম বলেন, “আইনের সহায়তা পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি। একজন নিরপরাধ মানুষ যেন ন্যায়বিচার পান, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।”
বান্দরবান জেলা কারাগারের জেলার মনজুরুল ইসলাম বলেন, “হাইকোর্টের আদেশ হাতে পেলেই দ্রুততার সঙ্গে তাকে মুক্তি দেওয়া হবে।”
এই ঘটনা আবারও দেখাল—সময়মতো আইনি সহায়তা পেলে অসহায় মানুষও ন্যায়বিচার পেতে পারেন। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, দীর্ঘ এই ছয় বছরের হারানো সময়ের দায় নেবে কে?

Link copied!