নীলফামারীর জলঢাকায় রুপালি মাছে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ, এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে রোববার সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে বর্ণাঢ্য র্যালি, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার কামরুজ্জামান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জলঢাকা
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলম, উপজেলা জামায়াতের আমীর মোখলেছুর রহমান মাস্টার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিজানুর রহমান, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরিফুল আলম, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা এস এম গোলাম মোস্তফা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুমি বেগম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরিফুল আলম বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত ভাবে মাছ চাষ করা গেলে জলঢাকার মৎস্য উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।
পাশাপাশি নিরাপদ ও পুষ্টিকর মাছ উৎপাদনে চাষিদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী বলেন, আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করলে অন্যান্য অনেক ফসলের তুলনায় বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব। একটি পরিবার বছরে গড়ে প্রায় ২০ হাজার টাকার মাছ কিনে থাকে। তাই অল্প জমিতেও পরিকল্পিত ভাবে মাছ চাষ করা গেলে একদিকে পরিবারের মাছের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব, অন্যদিকে অতিরিক্ত মাছ বাজারে বিক্রি করে আয় করা যায়। তিনি সবাইকে নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি বাণিজ্যিক ভাবে মাছ চাষে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আসুন আমরা নিজেরা মাছ চাষ করি এবং অন্যদেরও মাছ চাষে উৎসাহিত করি।
মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে পারলে একদিকে দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বাড়বে। মৎস্য চাষে বিশেষ অবদান রাখায় অনুষ্ঠানে তিনজন সফল মাছ চাষিকে পুরস্কৃত করা হয়। সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি বলেন, মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে মাছ চাষে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। নিরাপদ মাছ উৎপাদনের পাশাপাশি জলাশয় সংরক্ষণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং মৎস্যসম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে জলঢাকাকে মৎস্য উৎপাদনে আরও সমৃদ্ধ উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন :