মৌলভীবাজারের সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার প্রতিরোধে চলমান অভিযানে চলতি বছরের প্রথম সাত মাস ১০ দিনে ৮৩০ কোটি ৪৮ লাখ ৮৯ হাজার ৪৭৭ টাকা মূল্যের মাদক ও অন্যান্য চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সময়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, কার্তুজ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীটি।সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ৪৬ বিজিবি শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ।
বিজিবি জানায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে মাদক, অস্ত্র, মানবপাচার ও অন্যান্য অবৈধ পণ্যের পাচার প্রতিরোধে কার্যক্রম চালানো হয়েছে।অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে চারটি পিস্তল, ছয়টি এয়ারগান, পাঁচটি পাইপগান ও একটি ওয়ান শুটার গান। এ ছাড়া ৪০ রাউন্ড কার্তুজ, ১৮ দশমিক ৩৩ কেজি উচ্চ বিস্ফোরক, ১১৭টি ডেটোনেটর এবং ৩০ মিটার ডেটোনেটর তার উদ্ধার করা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে চারটি সেক্টরের অধীনে ১৩টি ইউনিটের ২১১টি বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি) কাজ করছে। সীমান্তে মাদক ও অস্ত্র পাচারের পাশাপাশি মানবপাচার ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্তে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, চোরাচালান ও অস্ত্র-গোলাবারুদ পাচার প্রতিরোধ, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে বিজিবি অঙ্গীকারবদ্ধ। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেও বাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ব্রিফিংয়ে সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। দুর্যোগকালীন সময়ে দুর্গত মানুষের সহায়তায় বিজিবির মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে ভবিষ্যতে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :