কিশোরগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবনেই চলছে মাদ্রাসার পাঠদান, আতঙ্কে ৪০০ শিক্ষার্থী

জামাল উদ্দিন , কিশোরগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম

কিশোরগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবনেই চলছে মাদ্রাসার পাঠদান, আতঙ্কে ৪০০ শিক্ষার্থী

ফাইল ফটো

কিশোরগঞ্জ শহরের নগুয়া এলাকায় নগুয়া আয়েশা আহাদ দাখিল মাদ্রাসার জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ একাডেমিক ভবনে চলছে পাঠদান। প্রায় এক দশক আগে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও এখনো নতুন ভবন নির্মাণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনেই পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারী রয়েছে    আতঙ্কে । 

মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় নগুয়া আয়েশা আহাদ দাখিল মাদ্রাসা। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে নির্মিত হয় মাদ্রাসার একাডেমিক ভবনটি। দীর্ঘদিনের পুরোনো এ ভবনের বিভিন্ন স্থানে ছাদ ও বিমে  বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও আস্তর খসে পড়েছে। ভবনের বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় এটি এখন শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

২০১৬ সালের ২৪ জুলাই ভবনটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত আবেদন করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। আবেদনে বলা হয়, একাডেমিক ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষিত হওয়ায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান পরিচালনা করা হুমকির মুখে পড়েছে। পরবর্তীতে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও নতুন ভবন নির্মাণে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০১৬ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ১০ বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পাঠদান চলছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী, ১৬ জন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারী রয়েছেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, দাখিল পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ফলাফলও সন্তোষজনক। কিশোরগঞ্জ শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ শ্রেণিকক্ষ না থাকায় শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে।

মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী চিত্রামনি ও মোহাম্মদ ওমা বলেন, আমাদের মাদ্রাসার ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এই ভবনেই ক্লাস করতে হয়। কখন যে বিম বা ছাদের কোনো অংশ ভেঙে মাথায় পড়ে যায়, সেই ভয় সবসময় কাজ করে। আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস করতে হয়। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছা. খাদিজা বলেন, এই শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করতে আমাদের খুব ভয় হয়। এর আগেও ছাদের আস্তর ভেঙে পড়েছে। সবসময় মনে হয়, কখন কী হয়।

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল খায়ের সানাউল্লাহ বলেন, কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় এটি একমাত্র দাখিল মাদ্রাসা। এখানে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী, ১৬ জন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারী রয়েছেন। ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ। ২০১৬ সালে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন করে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ২০০১ সাল থেকে কিশোরগঞ্জ শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু আমরা বারবার আবেদন করেও কোনো সুফল পাইনি। আমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, নগুয়া আয়েশা আহাদ দাখিল মাদ্রাসায় দ্রুত নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়া হোক। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছু নাহার মাকসুদা বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করব।

জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম খান বলেন, আমি প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনে যাব। এরপর যত দ্রুত সম্ভব ঊর্ধ্বতন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি অপসারণ করে সেখানে নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যেকোনো সময় ভবনের কোনো অংশ ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সিয়াম সরিষা
Link copied!