শেরপুরের নকলায় নারীর প্রলোভনে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এক ভ্যানচালককে হত্যা করে তিন বন্ধু। দীর্ঘদিন তিন বছর পর মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে জেলা শহরের পুরাতন গরুহাটি এলাকায় পিবিআই অফিসে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।
তিনি জানান, ২০২৩ সালে ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নকলার পাঠাকাটা নিজ বাড়ি থেকে ভ্যানচালক আঃ মন্নাছকে নারীর প্রলোভনে ডেকে নিয়ে যায় তারই তিন বন্ধু মোস্তাকিন, স্বপন ও শাহীন। এরপর রাত ১০টার দিকে উপজেলার বাঘমারী বিলের কাছে নিয়ে আঃ মন্নাছকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তারা। পরে ওই বিলের কাদা ও কচুরিপনাা দিয়ে ঢেকে রেখে ভ্যানগাড়ীটি নিয়ে চলে যান ওই তিন বন্ধু। পরবর্তীতে সেই গাড়ীটির ব্যাটারি ১৪হাজার ও গাড়ীর অন্যান্য যন্ত্রপাতি ৮হাজার টাকায় বিক্রি করে তিনজনে ভাগাভাগি করে নেয়। এ ঘটনায় নকলা থানায় মামলা হলে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব পায়।
মামলার বাদী মন্নাছের স্ত্রী আছমা আক্তার বলেন, এতদিন পর হলেও আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের দেখতে পেয়ে খুব খুশি হয়েছি। আমার স্বামী নিরীহ মানুষ। কারোর সাথে আমাদের ঝগড়া আছিলো না, তারপরও তারা মেরে ফেলেছে। আমার স্বামীর হত্যাকারীর ফাঁসি চাই। আমার একটি ছোট বাচ্চা রয়েছে, তাকে পড়াশোনা ও খাওয়া-দাওয়া করানো খুব কষ্ট হয়ে গেছে আমার। আমি সরকারের সহযোগিতা চাই। আমার চলারমতো কিছুই নেই এখন। এই ভ্যানগাড়ী চালিয়ে আমার স্বামী সংসার চালাতো।
পিবিআই’র পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, এ ঘটনায় ওই সময় অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি মামলা দায়ের হয়। এরপর পুলিশ বিভিন্ন সময় পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে মামলাটি পিবিআই তদন্ত শুরু করে। প্রথমে এসআই রফিকুল ইসলাম তদন্ত করলেও পরে বদলিজনিত কারণে এসআই জাহাঙ্গীর আলম মামলাটির তদন্ত করে। এরপর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ও মামলা পর্যালোচনা করে মূলহোতাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :