ফ্যামিলি কার্ডের শুমারিতে নিয়োগ অনিয়মের প্রতিবাদ, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

ফ্যামিলি কার্ডের শুমারিতে নিয়োগ অনিয়মের প্রতিবাদ, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় ফ্যামিলি কার্ডের শুমারিতে লোক নিয়োগে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তারাকান্দা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব মামুন ফকিরকে বহিষ্কার করেছে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদল। গত ১৪ আগস্ট ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুজ্জামান সোহেল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মামুন ফকিরকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। এদিকে মামুন ফকিরের বহিষ্কারের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই বিএনপির 'দুর্দিনের কর্মী' হিসেবে পরিচিত মামুন ফকিরকে বহিষ্কারের সমালোচনা করেন। তাদের দাবি, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ক্ষোভের কারণ অনুসন্ধান না করে বহিষ্কার করা হলে তা দলের জন্য ভালো বার্তা বয়ে আনবে না।

বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা মামুন ফকির বলেন, "২০১৪ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ করতে গিয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যোগ দিই। এরপর থেকে বিএনপি ও ছাত্রদলের ঘোষিত সব কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি। ২০২১ সালে তারাকান্দা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে সদস্য সচিবের দায়িত্ব পাই এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। তিনি আরও বলেন, "২০২৩ সালের ২৯ জুলাই মোতাহার হোসেন তালুকদারের নেতৃত্বে ঢাকার উত্তরা এলাকায় অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হই। পরে ডিবি পুলিশের তৎপরতার কারণে ঢাকায় চিকিৎসা নিতে না পেরে ময়মনসিংহে এসে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে ছাত্রদলের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সব আন্দোলন-সংগ্রামেও অংশ নিয়েছি।"

মামুন ফকিরের অভিযোগ, তারেক রহমান ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ডের শুমারিতে লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাদের নাম আসায় তিনি এর প্রতিবাদ করেন। তার দাবি, "টাকার বিনিময়ে বিএনপির এক নেতার যোগসাজশে এ কাজ হয়েছে। তবে বহিষ্কারের কারণ হিসেবে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুজ্জামান সোহেল। তিনি বলেন, "মামুন ফকির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দল ও দলের প্রধানের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দেননি। এ কারণে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।"

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, দলের তৃণমূলের কোনো নেতাকর্মী যদি অনিয়মের প্রতিবাদ করে থাকেন, তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। আবার দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ থাকলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া উচিত। উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে এ নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর হবে।

সিয়াম সরিষা
Link copied!