‘ক্লিন বাংলাদেশ, ক্লিন জার্নালিজম’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ পেশাদার সাংবাদিক ফোরাম (বিপিজেএফ)। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সংগঠনটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। অভিযানে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় পড়ে থাকা প্লাস্টিক, পলিথিন, কাগজসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে অপসারণ করা হয়। একই সঙ্গে পর্যটক ও স্থানীয়দের সমুদ্র সৈকত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলার বিষয়ে সচেতন করা হয়।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কাজী শরিফুল ইসলাম (শাকিল) ও সাধারণ সম্পাদক মো. রোমান আকন্দের নেতৃত্বে কর্মসূচিতে অংশ নেন সহ-সভাপতি মাহবুব আলম বাবু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এসএম রেজাউল করিম ও সোহেল রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক সঞ্জয় সাহা, খাদেমুল ইসলাম, আবুল হোসেন, ঢাকা মহানগরের প্রধান সমন্বয়ক হাফিজ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় ধর্ম সম্পাদক এসএম জাহান ইমাম, আইন সম্পাদক খোরশেদ আলম বাবুল, গণযোগাযোগ সম্পাদক মাইনুউদ্দিন জমাদার, খাইরুল ইসলামসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
বিপিজেএফ সভাপতি কাজী শরিফুল ইসলাম (শাকিল) বলেন, “সাংবাদিকতার মূল দায়িত্বের পাশাপাশি সমাজ ও পরিবেশের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। কক্সবাজার শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র। এই সমুদ্র সৈকতকে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। ‘ক্লিন বাংলাদেশ, ক্লিন জার্নালিজম’ শুধু একটি স্লোগান নয়, এটি আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ। ভবিষ্যতেও দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।”
বিপিজেএফ সাধারণ সম্পাদক মো. রোমান আকন্দ বলেন, “পরিবেশ রক্ষায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা শুধু সংবাদ পরিবেশন করব না, পাশাপাশি সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনেও ভূমিকা রাখতে চাই। সমুদ্র সৈকতে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে পরিবেশ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই পর্যটক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাসহ সবাইকে সচেতন হতে হবে। পরিচ্ছন্ন সৈকত নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।”
সংগঠনের সহ-সভাপতি মাহবুব আলম বাবু বলেন, “কক্সবাজারের সৌন্দর্য রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। পর্যটকরা যেন সৈকতে এসে আনন্দের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন পরিবেশও পান, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। আমরা চাই, পরিচ্ছন্নতার এই উদ্যোগ একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হোক। কর্মসূচিতে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, শুধু একদিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান নয়, নিয়মিত সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব। এ জন্য পর্যটকদের নির্দিষ্ট ডাস্টবিন ব্যবহার, প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিপিজেএফের কেন্দ্রীয় ও মহানগর কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সংগঠনের সদস্যরা। পরে তারা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও পরিবেশ সুরক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আপনার মতামত লিখুন :