দীর্ঘ ১৫ বছর আগে কেরানীহাটে এসেছিলেন তিনি। এরপর কেটে গেছে এক যুগেরও বেশি সময়। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে আপন বলতে কাউকে পাননি, জানেন না নিজের কোনো স্বজনের ঠিকানাও। কেরানীহাটের বিভিন্ন স্থানে ভবঘুরে জীবন কাটিয়ে আসছিলেন তিনি।এরই মধ্যে গত ২ /০৮/২০২৬ কেরানীহাট এলাকায় একটি মোটরসাইকেল তার পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অপারেশন সম্পন্ন না হওয়ায় বর্তমানে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটছে তার।
বর্তমানে কেরানীহাট উলামিয়া মার্কেটের নিচের খোলা জায়গাটিই তার ঠিকানা। আপন বলতে কেউ না থাকায় মানুষের দেওয়া খাবারেই কোনোভাবে দিন পার করছেন তিনি। স্থানীয় কয়েকজন মানবিক ব্যক্তি সামর্থ্য অনুযায়ী তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের মধ্যে জাহাঙ্গীর( স:) নুনু ও কয়েকজন ব্যাবসায়ী দায়িত্ব মনে করে নিয়মিত তার দেখভাল করছেন।কেরানীহাট ব্যাবসায়ী সমিতির সভাপতি মাস্টার জয়নাল আবেদীন জানান তার পায়ের অপরেশন করা না হলে তার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে বেছে থাকা।
শারীরিক অবস্থার কারণে বর্তমানে তার পায়ের অপারেশন প্রয়োজন। এমনকি নিজের দৈনন্দিন প্রয়োজনও তিনি ঠিকমতো সামলাতে পারেন না। প্রস্রাব-পায়খানা পরিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় দেখভালের জন্য একজন ছেলেকে টাকা দিয়ে রাখতে হচ্ছে। অর্থের ব্যবস্থা না হলে তার পাশে থাকার মতো কাউকেও পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় কোনো মানবিক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা সমাজের বিত্তবান কেউ যদি তার পায়ের অপারেশন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার দায়িত্ব নেন, তাহলে হয়তো দীর্ঘদিনের ভবঘুরে জীবনে নতুন আশার আলো ফিরতে পারে। আবারও নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ পেতে পারেন তিনি।
একজন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য হয়তো খুব বেশি কিছু প্রয়োজন নেই—প্রয়োজন শুধু একটি মানবিক মন। সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষদের প্রতি আহ্বান, এই মানুষটির চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে কেউ এগিয়ে আসুন। আপনার সহযোগিতাই হয়তো তাকে আবার হাঁটার সুযোগ করে দিতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন :