চট্টগ্রামে শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ

নিউজ ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম

চট্টগ্রামে শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ

ফাইল ফটো

​আকরাম , চট্টগ্রাম : ​চট্টগ্রামে আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন হট্টগোল, শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসানসহ চার পুলিশ সদস্য এবং বেশ কয়েকজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার জেরে নগরের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন কেন্দ্রগুলোয় সড়ক অবরোধ করায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটের বাস চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নগরের হালিশহর ঈদগাহ এলাকার দুলহান কমিউনিটি সেন্টারে সংগঠনের নির্ধারিত ভোটগ্রহণ চলছিল। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও দুপুরের পর ভোটকেন্দ্রে চরম অব্যবস্থাপনা, অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণ এবং জাল ভোট দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তোলেন একদল শ্রমিক। ​এর জেরে শ্রমিকদের দুটি পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ উভয় পক্ষকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে শ্রমিকদের ত্রিমুখী সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়।

​পুলিশের দাবি, উত্তপ্ত পরিস্থিতির একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বাধ্য হয়ে কাঁদানে গ্যাস (টিয়ারশেল) নিক্ষেপ করে। এই আকস্মিক পদক্ষেপে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং হুড়োহুড়িতে বেশ কয়েকজন সাধারণ শ্রমিক আঘাত পান। ​চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, এই সংঘর্ষ ও পরবর্তী বিশৃঙ্খলার ঘটনায় সোহেল (২৭) ও ইলিয়াস (৪৫) নামের দুই শ্রমিক আহত হয়ে হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্যদিকে, আহত ওসি কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসানসহ চার পুলিশ সদস্য বর্তমানে দামপাড়া পুলিশ লাইনস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​নির্বাচনী এই সহিংসতার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিক্ষুব্ধ পরিবহন শ্রমিকরা নগরের ব্যস্ততম কদমতলী ও অলংকার মোড় এলাকায় অবস্থান নিয়ে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেন। সড়কে বাঁশ, লাঠিসোঁটা ও বিভিন্ন ভারী বস্তু ফেলে তারা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। ​এর ফলে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকা এবং অন্যান্য আঞ্চলিক রুটের সমস্ত বাস ও পরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আকস্মিক এই ধর্মঘট ও অবরোধের কারণে নগরের বিভিন্ন প্রধান সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও দূরপাল্লার পথচারীরা।​স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য বর্তমানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে

সিয়াম সরিষা
Link copied!