৩ গাড়ি ভাড়ায় ৩০০ কোটি, রেলের ১,২৯৮ কোটির প্রকল্পে ২২১ অসংগতি

বিশেষ প্রতিনিধি , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৫:১০ পিএম

৩ গাড়ি ভাড়ায় ৩০০ কোটি, রেলের ১,২৯৮ কোটির প্রকল্পে ২২১ অসংগতি

ফাইল ফটো

বাংলাদেশ রেলওয়ের ২০০টি আধুনিক ব্রডগেজ যাত্রীবাহী বগি কেনার ১ হাজার ২৯৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকার প্রকল্পে একের পর এক অসংগতির তথ্য সামনে এসেছে। প্রকল্পের আর্থিক নথি পর্যালোচনায় অন্তত ২২১টি ভুল ধরা পড়েছে। এর মধ্যে একটি জিপ, একটি মাইক্রোবাস ও একটি সেডান ভাড়া বাবদ কর ও ভ্যাটসহ ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ের তথ্যও রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৪ সালের ২০ মে ভারতের রেল ইন্ডিয়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক সার্ভিসেস (আরআইটিইএস) লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালা রেল কোচ ফ্যাক্টরি থেকে এসব বগি সরবরাহের কথা। বর্তমানে প্রথম চালানের ১৯টি বগি দর্শনা সীমান্তে রয়েছে।

প্রকল্পের নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, বগি কেনার পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে অস্বাভাবিক ব্যয় যুক্ত করা হয়েছে। চট্টগ্রামের পাহাড়তলী, পার্বতীপুর ও ঈশ্বরদীতে কমিশনিং ও প্রক্রিয়াকরণ বাবদ বিপুল অর্থের হিসাব দেখানো হয়েছে। মূল প্রকল্পের বাইরে ১৩৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে চতুর্থ রিলিফ ক্রেন এবং এর পরামর্শক ফি হিসেবে ৯০১ কোটি ২০ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

এ ছাড়া ইলেকট্রিক সাবস্টেশন ও চারটি হুইল লেদ মেশিনের বিদ্যুতায়নে ৬০০ কোটি টাকা এবং ২০০টি বগির নকশা যাচাই ও পরামর্শক কাজে ২১৪ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব রয়েছে।

গত ২৪ জুনের পর্যালোচনায় এসব আর্থিক নথিতে ২২১টি ভুল শনাক্ত করা হয়। নির্দিষ্ট কাজ উল্লেখ না থাকলেও একজন পরামর্শকের ৪৮ মাসের সম্মানি ধরা হয়েছে ৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এমনকি কয়েকটি পরামর্শক ফি ও যন্ত্রপাতি-সংক্রান্ত ব্যয়ের তথ্য অন্য একটি রেলপথ নির্মাণ চুক্তি থেকে হুবহু নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ না করে ক্রয় পরিকল্পনার তিনটি প্রধান প্যাকেজের ব্যয়ের তথ্য ফাঁকা রাখার বিষয়টিও প্রশ্ন তুলেছে।

২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়। ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের অর্থায়নে মূল পরিকল্পনা ছিল ১ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি না থাকলেও কম্পিউটার, প্রিন্টার ও আসবাবপত্র কিনতে ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। মূল সরবরাহ চুক্তির আগেই প্রথম দুই বছরে মোট বরাদ্দের ৭০ শতাংশ, অর্থাৎ ৮২৯ কোটি ১২ লাখ টাকা ছাড়ের শর্তও রাখা হয়েছে।

অনিয়মের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক জয়দুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরবর্তীতে বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

রেল সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে দ্রুত কার্যকর তদারকি প্রয়োজন।

সিয়াম সরিষা
Link copied!