চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাল বণ্টননামা দলিল তৈরি করে বসতভিটা দখলের চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের উত্তর ঘোড়ামরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।বুধবার রাতে সীতাকুণ্ড থানার একটি টীম অভিযান চালিয়ে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ঘোড়ামরা এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, গতকাল রাতে অভিযান চালিয়ে সোনাইছড়ি এলাকা থেকে জাল দলিল সৃজনকারী চারজনকে আদালতের ওয়ারেন্ট মূলে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে আজ আদালতে পাঠানো হবে।
জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলা সিআইডি মামলাটির বিস্তারিত তদন্ত পরিচালনা করেছে। মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, মামলার প্রধান অভিযুক্ত চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তারা উভয় যোগসাজশে বাদীর পিতা আবদুল হকের টিপসহি জাল করে দলিল সৃজন করে জমি রেজিস্ট্রি করিয়ে নেয়।আদালতে পেশ করা অভিযোগের বিবরণী সূত্রে জানা যায়, জাল দলিল সৃষ্টির পেছনে যুক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন, সোনাইছড়ি ইউনিয়নের উত্তর ঘোড়ামরা এলাকার আহম্মদ মিঞার ছেলে মোঃ ওমর ফারুক, ২. আবু তাহের লিটন, আবদুল কাদেরের ছেলে, মাসুদ পারভেজ শাহেদ, আবদুল নবির ছেলে মোঃ নাঈম উদ্দিন।
মামলার এজাহার ও সিআইডির অনুসন্ধানের তথ্য মতে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে সীতাকুণ্ড সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বিগত ২০১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর ৭৯৪৮ নম্বরের একটি ভুয়া বণ্টননামা দলিল প্রস্তুত করে। ওই দলিলে জমি মালিক মৃত আবদুল হককে চতর্থ পক্ষ হিসেবে দেখানো হয়। অথচ আবদুল হক কখনোই ওই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত হননি এবং কোনো প্রকার সই বা টিপসই প্রদান করেননি। এমনকি তাঁর পাসপোর্টে ব্যবহৃত আসল সইয়ের সাথে ভুয়া দলিলের স্বাক্ষরের চরম অমিল রয়েছে।
জালিয়াতির মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত এই ভুয়া দলিলটি আসামিরা দীর্ঘদিন গোপন রাখে। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আবদুল হক মৃত্যুবরণ করলে আসামিরা এই জাল দলিল প্রকাশ্যে এনে সম্পত্তি দখলের পায়তারা চালায়। তদন্তে আরো উঠে আসে, দলিলের তিন নম্বর সাক্ষী মোঃ সাইফুলকে প্রতারণামূলকভাবে ওয়ারিশি আপোষ-বণ্টনের কথা বলে সই নেওয়া হয়েছিল এবং দুই নম্বর সাক্ষী মাসুদ পারভেজ শাহেদকে দলিলে আংশিক নাম (‘মোঃ শাহেদ’) ব্যবহার করে তথ্য গোপন করার চেষ্টা করা হয়।
ইতিপূর্বে সীতাকুণ্ড ভূমি অফিসের বিবিধ মামলা দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দাখিলকৃত জবাবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই বণ্টননামা দলিলে আবদুল হকের কোনো সই বা সম্মতি ছিল না।মামলার বাদী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গতকাল চার আসামীকে গ্রেফতার করে নেয়ার সময় পুলিশের সামনে প্রকাশ্যে বাদীকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। এমনকি জামিনে এসে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকিও দেন আসামিরা।

আপনার মতামত লিখুন :