কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েন ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে এক নারী ও এক যুবকের একসঙ্গে বিষপানের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে গুরুতর অবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তারা। দুজনেরই শরীরেই বিষের তীব্রতা ছড়িয়ে পড়ায় তাদের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিরপুর উপজেলার ধুবাইল গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী করিপুল গ্রামের শাকিল নামের এক যুবকের দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। যুবকের পূর্বে স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে এবং ওই নারীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন। এই সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক কানাঘুষা ও পারিবারিকভাবে মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছিল।
ঘটনার দিন উভয়ের মধ্যে তীব্র মনোমালিন্য ও সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়। একপর্যায়ে মানসিক চাপ সইতে না পেরে তারা স্থানীয় একটি বিনোদন পার্কে গিয়ে দেখা করেন এবং একসঙ্গে বিষপান করেন। পার্কের দর্শনার্থী ও কর্মচারীরা তাদের গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ছটফট করতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) জানান, হাসপাতালে আনতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় বিষের তীব্রতা রোগীদের শরীরে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের স্টমাক ওয়াশ করা হয়েছে এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আশঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না।
মিরপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, রোগীরা অচেতন থাকায় এখনো তাদের জবানবন্দি নেওয়া সম্ভব হয়নি। এটি স্বেচ্ছায় আত্মহত্যার চেষ্টা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো প্ররোচনা বা ব্ল্যাকমেইলের ঘটনা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :