৮ বছরের প্রবাস জীবন শেষে কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরলেন জীবননগরের ইরাক প্রবাসী রেজাউলের মরদেহ

শিমুল রেজা , চুয়াডাঙ্গা জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম

৮ বছরের প্রবাস জীবন শেষে কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরলেন জীবননগরের ইরাক প্রবাসী রেজাউলের মরদেহ

ফাইল ফটো

পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে প্রায় আট বছর আগে ইরাকে পাড়ি জমিয়েছিলেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রেজাউল ইসলাম (৩০)। প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে নিজের স্বপ্নের বাড়িও নির্মাণ করেছিলেন। দেশে ফিরে বিয়ের প্রস্তুতিও চলছিল। তবে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মৃত্যুর ২৫ দিন পর নিথর দেহে দেশে ফিরেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে রেজাউল ইসলামের মরদেহ তার নিজ বাড়ি জীবননগর উপজেলার মৃগমারী গ্রামে পৌঁছায়। তিনি ওই গ্রামের রহিম হুজুরের ছেলে।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আল মনসুর এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন রেজাউল। এ সময় সেখানে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

রেজাউলের মৃত্যুর পর দীর্ঘ ২৫ দিন তার মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। বুধবার দিবাগত রাতে একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ ইরাক থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।পরে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করে। সেখান থেকে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।

দুপুরে রেজাউলের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। স্বজনদের আহাজারিতে শোকাবহ হয়ে ওঠে পুরো মৃগমারী গ্রাম। শেষবারের মতো রেজাউলকে দেখতে বাড়িতে ছুটে আসেন আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীসহ স্থানীয়রা।স্বজনরা জানান, পরিবারের অভাব-অনটন দূর করে স্বচ্ছলতা ফেরানোর আশায় প্রায় আট বছর আগে ইরাকে যান রেজাউল। সেখানে কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে নিজের স্বপ্নের বাড়ি তৈরি করেন। সেই বাড়িকে ঘিরে ছিল তার নানা পরিকল্পনা।

প্রবাসজীবনের দীর্ঘ সময় পর দেশে ফিরে বিয়ে করে সংসার শুরুর পরিকল্পনা ছিল রেজাউলের। এ জন্য বাড়িতে বিয়ের প্রস্তুতিও চলছিল। পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও ছিল আনন্দের অপেক্ষা।কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই বাড়িতে জীবিত অবস্থায় আর ফেরা হলো না তার। যে স্বপ্নের বাড়ি তিনি নিজের উপার্জনের অর্থে তৈরি করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেখানেই ফিরতে হলো নিথর দেহ নিয়ে।

স্বজনরা জানান, তারা আশা করেছিলেন রেজাউল জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাবেন এবং নতুন জীবন শুরু করবেন। কিন্তু দীর্ঘ ২৫ দিনের অপেক্ষার পর ফিরেছে তার মরদেহ। প্রিয় মানুষটিকে হারানোর এই শোক কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।

সিয়াম সরিষা
Link copied!