পছন্দের পোস্টিংয়ে অর্থের খেলা? সমবায় অধিদপ্তরে নবীরুল-মিজান সিন্ডিকেট

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম

পছন্দের পোস্টিংয়ে অর্থের খেলা? সমবায় অধিদপ্তরে নবীরুল-মিজান সিন্ডিকেট

ফাইল ফটো

মোহাম্মদ আলী আবির: দেশের তৃণমূল পর্যায়ে সমবায় সমিতির নিবন্ধন, তদারকি, আইনগত পরামর্শ, প্রশিক্ষণ এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সমবায় অধিদপ্তর। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রমের একটি অংশকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি, বদলি-বাণিজ্য ও প্রভাব বিস্তারের নানা অভিযোগ উঠেছে।

সমবায় অধিদপ্তরের অতিরিক্ত নিবন্ধক (প্রশাসন, মাসউ ও ফাইন্যান্স) মো. নবীরুল ইসলাম এবং যুগ্ম নিবন্ধক (প্রশাসন) মিজানুর রহমান ওরফে ‘কালা মিজান’কে ঘিরে একটি কথিত ‘বদলি সিন্ডিকেট’ সক্রিয় থাকার অভিযোগ কর্মকর্তা কর্মচারীদের। 

তাদের দাবি, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদায়নে অনানুষ্ঠানিক প্রভাব বিস্তার করে পছন্দের কর্মস্থল পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, পছন্দের কর্মস্থলে বদলি বা পদায়নের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং অর্থের পরিমাণ অনুযায়ী সুপারিশের বিষয়টি নির্ধারিত হয়।

নবীরুল ইসলামকে ঘিরে পুরোনো অভিযোগ

২০তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে এবং ১৭তম বিসিএসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার চাকরিতে প্রবেশের বিষয়টি উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে, নবীরুল ইসলামের বিরুদ্ধে চাকরির শুরু থেকেই বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো—মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কোটার সুবিধা গ্রহণ করে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া। অভিযোগকারীদের দাবি, তার পিতা মৃত মো. শহিদুল ইসলামকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেখিয়ে তিনি চাকরিতে প্রবেশ করেন।

এ সংক্রান্ত অভিযোগে ২০০১ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলা দায়েরের কথা উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, মামলাটির তদন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে যায় এবং ২০০২ সালের ১৫ জুন নবীরুল ইসলাম সাময়িক বরখাস্ত হন। পরে তিনি প্রভাব খাটিয়ে দায়মুক্তি পান—এমন অভিযোগও রয়েছে।

সিরাজগঞ্জে জমি বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন

২০১১ সালে সিরাজগঞ্জে উপ-নিবন্ধক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সিরাজগঞ্জ কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের প্রায় ছয় শতক জমি বিক্রির ঘটনায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে নবীরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এ ঘটনায় বিভাগীয় মামলাও হয়েছিল।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, ওই মামলার তথ্য গোপন করেই পরবর্তী সময়ে তিনি পদোন্নতি লাভ করেন। এ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় মামলার নথি, তদন্ত প্রতিবেদন ও পদোন্নতির সময় দাখিল করা তথ্য পর্যালোচনার দাবি উঠেছে।

রাজশাহীতেও অনিয়মের অভিযোগ

২০১২ সালে রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে বন্ধকী জমির ওপর একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে নবীরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীদের দাবি, এতে সমবায় ও সরকারি সম্পদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তৎকালীন বিভাগীয় যুগ্ম নিবন্ধক এতে বাধা দিলে তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও রয়েছে। একই সময়ে সমিতির নিবন্ধন, পরিদর্শন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের নামে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও ওঠে।

‘বদলি সিন্ডিকেটে’ কারা?

অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ, নবীরুল ইসলাম ও মিজানুর রহমানকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে উঠেছে। এ বলয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদায়নে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনকেও এ বলয়ের একজন সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বদলির ভয় দেখিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ।

তহমিদুজ্জামানকে ঘিরে ঘুষের অভিযোগ

সাবেক জেলা সমবায় কর্মকর্তা তহমিদুজ্জামানকে ঘিরেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি অ্যাপার্টমেন্ট মালিক সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সভাপতি পদপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

শাহবাগ থানায় করা অভিযোগের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, নির্বাচনে বিজয়ী করে দেওয়ার আশ্বাসে পৃথক প্রার্থীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে এক ব্যবসায়ী দুদকের কাছে ফাঁদ মামলা করার আবেদন করেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের ১৬ জুন বাংলামোটরে ওই ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে ঘুষের অর্থ নিতে গেলে সমবায় অধিদপ্তরের পরিদর্শক শাহজাহান আলী, সহকারী পরিদর্শক শাখাওয়াত হোসেন ও মনির হোসেন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। পরে এ ঘটনায় মামলা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের কারাভোগের কথাও জানা যায়।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, নবীরুল ইসলাম:  তহমিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এড়াতে প্রভাব বিস্তার এবং তাকে পুনরায় ঢাকায় পদায়নের চেষ্টা করছেন।

শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রায় ১০ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ

ঢাকার জেলা সমবায় কর্মকর্তা শিহাব উদ্দিন আহমেদকে নিয়েও অভিযোগের শেষ নেই বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার প্রায় ২২টি সমবায় সমিতির ওপর প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। ভুক্তভোগী সমিতিগুলোর পক্ষ থেকে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথাও জানা গেছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রভাব খাটিয়ে তা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ১ নম্বর মুক্তিযোদ্ধা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. আলমাস হোসেন তুহিন শেরেবাংলা নগর থানায় সিআর মামলা নং-১৯৩/২০২৩ দায়ের করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জেলা সমবায় কর্মকর্তা সাদ্দামকেও নবীরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ বলয়ের সদস্য হিসেবে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। তার বিরুদ্ধে ১ নম্বর মুক্তিযোদ্ধা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সমিতির সাধারণ নির্বাচন বাতিল করে প্রায় সাত মাস কমিটি শূন্য রাখার পর বহিরাগত নয়জনকে অবৈধভাবে সদস্য করার সুযোগ দেওয়া হয়। এ প্রক্রিয়ায় প্রায় ২০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া সমিতির মালিকানাধীন ‘মুক্তি প্লাজা শপিং কমপ্লেক্স’-এর কয়েকটি তলায় থাকা দোকান ভেঙে আবাসিক হোটেল নির্মাণের উদ্যোগে মধ্যস্থতা করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ক্ষেত্রে ৫০ লাখ টাকার চুক্তি এবং অগ্রিম হিসেবে ২৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

ফরহাদ হোসেনকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ

থানা সমবায় কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেনকে নিয়েও আর্থিক অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অতীতে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে তিনি অধিদপ্তরে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।

কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি নির্বাচন এবং ম্যাক্সিম ফাইন্যান্স অ্যান্ড কমার্স মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায় ও অনিয়মের অভিযোগও করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আলাউদ্দিন মোল্লার বিরুদ্ধে সম্পদ ও বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগ

মেট্রোপলিটন থানা সমবায় কর্মকর্তা আলাউদ্দিন মোল্লার বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, রমনা এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সমবায় সমিতির কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে।

এ ছাড়া রাজউক, ওয়াসা ও অন্যান্য সমিতিকে কেন্দ্র করে আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বসিলা এলাকায় জমি ও দামি ফ্ল্যাটসহ অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

রমনা থেকে বদলির পর আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে লালবাগ মেট্রোপলিটন থানা এলাকায় পদায়ন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বর্তমানে অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায় পদায়ন নিশ্চিত করার জন্য অর্থ লেনদেনের চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগও করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা।

‘টেবিল অডিটে’ অনিয়মের অভিযোগ

সমবায় অধিদপ্তরের পরিদর্শক তাসকেরা সুলতানার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সমবায় সমিতির অডিট কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কিছু ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে সরেজমিন যাচাই না করেই অর্থের বিনিময়ে ‘টেবিল অডিট’ সম্পন্ন করা হয়। এমনকি প্রকৃত পরিস্থিতির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ভুঁইফোঁড় বা অনিয়মে জড়িত কিছু সমিতিকে নিয়মিত পরিদর্শনের আওতার বাইরে রাখা কিংবা প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো. ইলিয়াস সরকার পূর্বে ঢাকা জেলা সমবায় কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বিভাগীয় মামলা হয়েছিল এবং একপর্যায়ে পদোন্নতি স্থগিত ছিল—এমন দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরবর্তীতে প্রভাব খাটিয়ে পদোন্নতি নিয়ে পুনরায় ঢাকায় পদায়ন পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অতীতে সাবেক সমবায় মন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছেন—এমন দাবিও করেছেন অভিযোগকারীরা।

নাসির উদ্দিনকে নিয়েও তদন্তের দাবি

নাসির উদ্দিন সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ, বিগত সরকারের সময়ে শাহআলী ও মিরপুর থানায় দায়িত্ব পালনকালে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছিল। বর্তমানে পুনরায় শাহআলী থানায় পদায়ন পাওয়ার পর প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও সামনে এসেছে।

অভিযোগকারীরা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট সময়ের দায়িত্ব পালনের নথি পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন।

সমবায় অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ, বদলি-পদায়ন, সমিতির নিবন্ধন, অডিট, নির্বাচন, পরিদর্শন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী বলয় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। এতে সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং অধিদপ্তরের স্বাভাবিক প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

তাদের দাবি, অভিযোগগুলো সত্য না মিথ্যা—তা নির্ধারণে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বদলি-পদায়নের গত কয়েক বছরের নথি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পদ বিবরণী, বিভাগীয় মামলা, দুদক ও অন্যান্য তদন্তের রেকর্ড এবং সমিতিগুলোর কাছ থেকে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ যাচাই করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তাদের দায়মুক্তির বিষয়টিও স্পষ্ট করা উচিত। এতে একদিকে অধিদপ্তরের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরবে, অন্যদিকে নির্দোষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ওঠা অভিযোগের অবসান হবে।

তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট মামলা, বিভাগীয় নথি, দুদকের রেকর্ড এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

Link copied!