জনগণের রায় উপেক্ষা করলে কঠোর মাশুল দিতে হবে: আল্লামা মামুনুল হক

নুর হোসেন মিয়া , মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৭ পিএম

জনগণের রায় উপেক্ষা করলে কঠোর মাশুল দিতে হবে: আল্লামা মামুনুল হক

সরকারকে কড়া বার্তা দিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে কিংবা গণভোটের রায় উপেক্ষা করে অতীতে কেউ রেহাই পায়নি। ফ্যাসিবাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করলে কিংবা জনগণের রায় অস্বীকার করা হলে বিএনপি ও বর্তমান সরকারকেও রাজপথে কঠোর মাশুল দিতে হবে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের মিরসরাই পৌর সদরে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর, সিন্ডিকেট দমন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিরসনের দাবিতে এই লংমার্চ ও পথসভার আয়োজন করা হয়।

বক্তব্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সন্তানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতি তীব্র আফসোস প্রকাশ করেন আল্লামা মামুনুল হক। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা দেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে যে পথ ধরেছিলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের সন্তানও আজ সেই একই বিপজ্জনক পথে যাত্রা শুরু করেছেন—যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও আশঙ্কাজনক।”

সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, কেবল ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ড দিয়ে জনগণের মূল সমস্যার সমাধান হবে না। তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের খাত নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেট না ভাঙলে কোনো সংস্কারই টিকবে না। শেখ হাসিনা উন্নয়নের গল্প শুনিয়েও জনরোষ থেকে রেহাই পাননি উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে দেন যে, দেশের মানুষের পকেটে সরকার হঠানোর ‘লাল কার্ড’ প্রস্তুত রয়েছে।

গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে মামুনুল হক বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু নানা কৌশলে জনগণের সেই বিশাল রায়কে অবৈধ ঘোষণা করার চেষ্টা চলছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গণভোটের রায় যদি অবৈধ হয়, তবে এই সংসদ, সরকার এবং মন্ত্রিপরিষদ সবকিছুই অবৈধ হয়ে যাবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে ধানের শীষের ভোটও প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং শেষ পর্যন্ত বিএনপিকেও চূড়ান্তভাবে লাল কার্ড দেখানো হবে।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমির আলাউদ্দিন শিকদারের সভাপতিত্বে এবং মিরসরাই উপজেলা জামায়াতের আমির নুরুল কবিরের সঞ্চালনায় পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। জুলাই গণহত্যার বিচার, বিডিআর হত্যার বিচার এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান এই সরকার করতে পারবে কি না তা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে নামার জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তরুণদের চাকরির প্রতিশ্রুতি দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আঘাত হানা হবে। একই সাথে তিনি জুলাই গণহত্যা ও শহীদ ওসমান হাদি হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করেন।

পথসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর জেনারেল সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরোয়ার, এনসিপির সদস্যসচিব আকতার হোসেন এমপি, সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি অধ্যাপক ফজলুল করিমসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। পথসভায় বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

Link copied!