ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিলো কারা?

ওয়াসিফ আল আবরার , ইবি সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিলো কারা?

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রশিবিরের হল সেক্রেটারি কাজী জুহায়েরকে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলীনুর রহমানের থাপ্পড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষের সময় দেশীয় অস্ত্রের ব্যাপক মহড়া দেখা গেছে। এ সময় অনেকের হাতে রামদা, ছুরি, চাপাতি, জিআই পাইপ ও গাছের ডাল দেখা যায়। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের নিচতলার করিডোরে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হল শিবিরের সেক্রেটারি কাজী জুহায়ের ক্র্যাচে ভর দিয়ে যাওয়ার সময় ছাত্রদল নেতা আলীনূর তাকে থাপ্পড় মারেন। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষ প্রভোস্টের কার্যালয়ের সামনে পাল্টাপাল্টি স্লোগান ও ধাক্কাধাক্কিতে লিপ্ত হয়। অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা হলের ২১৭ নম্বর কক্ষে আশ্রয় নিলে শিবিরের নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে কক্ষের জানালায় ভাঙচুর ও দরজায় লাথি মারে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলীনূরকে উদ্ধার করে। তাকে প্রক্টরের গাড়িতে তোলার সময় শিবিরের নেতাকর্মীদের মারমুখী অবস্থানে দেখা যায়। এ সময় প্রক্টর ও ইবি থানার ওসির গায়ে কিল-ঘুষি লাগার ঘটনা ঘটে এবং প্রক্টরের গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। পরবর্তীতে ছাত্রদল ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল করে। একই সময়ে জিয়া মোড়, লালন শাহ ও শাহ আজিজ হলের পকেট গেট এলাকায় লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিবিরের নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্রের মহড়ার ছবি ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করেছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে হল দখলের রাজনীতির অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, শিবির সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি দাবি করেছেন, ঘটনার সূত্রপাত ছাত্রদলের কারণেই হয়েছে এবং স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল-যুবদলের নেতাকর্মীরা মহড়ায় অংশ নিয়েছে। উভয় পক্ষই ক্যাম্পাসে অস্ত্রধারীদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছে। ইবি থানার ওসি এস এম মামুনুর রশীদ বলেন, সংঘর্ষের পর পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি। অস্ত্রধারীদের শনাক্তে পুলিশের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান জানান, ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিবেদন অনুযায়ী অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Link copied!