ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রদল নেতা কর্তৃক ছাত্রশিবিরের হল সেক্রেটারিকে চড় মারার ঘটনায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ এবং দেশীয় অস্ত্রের মহড়া হয়েছে। এ সময় হলের একটি কক্ষের জানালার কাঁচ ও প্রক্টরের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হলের কক্ষ ভাঙচুরে জড়িত ছিলেন হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মারুফ, শাহ আজিজ হলের শিবির নেতা তানজীল, অর্থনীতি বিভাগের নাইমুর, আইসিটি বিভাগের রুহি, আইন বিভাগের নাজমুস সাকিব ও হোসনে মোবারক, আল ফিকহ বিভাগের ফয়সাল, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বাকি বিল্লাহ, দাওয়াহ বিভাগের আইনুল ও খালেদ সাইফুল্লাহ এবং আল হাদিস বিভাগের শাকিল ও ফরিদ।
এছাড়া প্রক্টরের গাড়ি বেরিয়ে যাওয়ার সময় হলের গেট পেরিয়ে কয়েক গজ এগোলে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের নাইম ও শাকিল আহমেদকে ইট ছুড়তে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, এ সময় আল হাদিস বিভাগের জুনায়েদ, আইন বিভাগের সাকিব এবং ল অ্যান্ড ল্যান্ড বিভাগের মতিউর ও জয়কেও ইটের টুকরা হাতে দেখা গেছে। ঘটনার সূত্রপাত শনিবার দুপুরে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের নিচতলার করিডোরে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হল শিবিরের সেক্রেটারি কাজী জুহায়ের ক্র্যাচে ভর দিয়ে যাওয়ার সময় ছাত্রদল নেতা আলীনূর তাকে চড় মারেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রভোস্টের কার্যালয়ের সামনে পাল্টাপাল্টি স্লোগান ও ধাক্কাধাক্কি হয়। অভিযুক্ত আলীনূর হলের ২১৭ নম্বর কক্ষে আশ্রয় নিলে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে দরজা ভাঙার চেষ্টা করেন এবং জানালার কাঁচ ভেঙে ফেলেন।
পরবর্তীতে প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ আলীনূরকে উদ্ধার করে প্রক্টরের গাড়িতে তোলার সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা মারমুখী হয়ে ওঠেন। এ সময় পুলিশের বেষ্টনী ভেদ করে প্রক্টর ও ইবি থানার ওসির ওপর কিল-ঘুষি চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। একপর্যায়ে ইট নিক্ষেপ করলে প্রক্টরের গাড়ির গ্লাস ও পেছনের লাইট ভেঙে যায়। ২১৭ নম্বর কক্ষে থাকা ছাত্রদলকর্মী জিম জানান, শিবিরের ১০-১৫ জন নেতাকর্মী গালিগালাজ করতে করতে দরজায় লাথি মারতে থাকে এবং একপর্যায়ে জানালার কাঁচ ভেঙে ফেলে। হলের পেছনে গিয়ে ব্যালকনিতে ইট মারলে তার হাতে আঘাত লাগে।
গাড়ির চালক আকুল জানান, হল থেকে আলীনূরকে নিয়ে গাড়ি ঘোরানোর সময় দূর থেকে ছোড়া ইটের আঘাতে গাড়ির মাঝের সারির গ্লাস ভেঙে যায়। এ বিষয়ে শাখা ছাত্রশিবির সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল এবং আমি নেতাকর্মীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছি। প্রক্টরের গাড়িতে কে ইট মেরেছে তা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারছি না। তবে অপরাধী যেই হোক, তার বিচার হওয়া উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান জানান, আলীনূরকে গাড়িতে তোলার সময় উত্তেজিত নেতাকর্মীরা ইট-পাটকেল ছুড়ে মারে, এতে গাড়ির কাঁচ ভেঙে যায়। কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে।

আপনার মতামত লিখুন :