আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শেষ মুহূর্তে চট্টগ্রামে ঈদের কেনাকাটা জমে উঠেছে। নামিদামি শপিং মল থেকে শুরু করে ফুটপাত সর্বত্রই বেচাকেনার ধুম। পরিবার-পরিজন নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ যেন হামলে পড়ছেন নগরীর বিপণিবিতানগুলোতে। দেখে মনে হয় মার্কেটগুলোতে ঈদের আমেজ লেগেছে। পবিত্র মাহে রমজানের ১৭তম দিন শেষ হয়েছে আজ। ঈদের ১৩ দিন বাকী থাকলেও নগরীর বিভিন্ন মার্কেটে উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। অল্প কিছুদিন পরেই চাকুরিজীবি মানুষের নাড়ির টানে ছুটবেন গ্রামের দিকে।তাই মার্কেটে ছুটার তাড়াটা এখন ঘরমুখো মানুষেরই বেশি। বাড়ি যাওয়ার আগে তারা শেষ করতে চাইছেন অসমাপ্ত কেনাকাটা। মার্কেট ও ফুটপাতে উপচে পড়া ভিড়।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) চট্টগ্রাম নগরীর নিউমার্কেট , সানমার ওশান সিটি, মিমি সুপার মার্কেট, আফমি প্লাজা, আখতারুজ্জামান সেন্টার, সেন্ট্রাল প্লাজা, শপিং কমপ্লেক্স, লাকি প্লাজা, সিঙ্গাপুর-ব্যাংকক মার্কেটসহ নগরীর অভিজাত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মার্কেটগুলো ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
সরজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, মার্কেট এবং শপিংমলগুলোতে সকাল থেকে শুরু হচ্ছে ব্যস্ততা। মিলছে দেশি-বিদেশি নানা ধরনের ঈদের পোশাক। নানা ধরনের অফার এবং ঈদ স্পেশাল কালেকশন বিক্রি করা হচ্ছে জনপ্রিয় শপিংমলগুলোতে।
পোশাকের দোকানগুলোতে পুরুষদের পায়জামা-পাঞ্জাবি, শার্ট-প্যান্ট, গেঞ্জি, টিশার্ট, নারীদের শাড়ি, থ্রিপিস, ওয়ান পিস, কুর্তা এবং বাচ্চা ও শিশুদের পায়জামা-পাঞ্জাবি, ফ্রক, গেঞ্জিসেটসহ আধুনিক ডিজাইনের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। একইসঙ্গে কসমেটিকস, জুতা, ঘর সাজানোর সামগ্রী এবং গহনার দোকানগুলোতেও ভিড় জমাচ্ছেন মানুষজন।
দোকানিরা জানান, এ বছর ঈদের কেনাকাটা আগেভাগেই শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে ভিড়। এবার নারী, পুরুষ ও শিশুর জন্য বিভিন্ন ডিজাইনের নতুন পোশাকগুলো বিক্রি হচ্ছে ব্যাপক হারে। এ ছাড়াও মসলিন, সিল্ক, জামদানি, কাতান, কাশ্মীরি কাজ করা শাড়ি ও লেহেঙ্গা, পুরুষদের পায়জামা-পাঞ্জাবি, টিশার্ট এবং শিশুদের জন্য নানা রঙের আরামদায়ক পোশাকের চাহিদা বেশি। গরমকে প্রাধান্য দিয়ে ক্রেতারা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সুতি কাপড়কে প্রাধান্য দিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন তারা।
ক্রেতারা বলছেন, বরাবরের মতোই ঈদকে সামনে রেখে কাপড়ের বাড়তি দাম চাইছেন বিক্রেতারা। স্কুলকলেজ রোজার শুরু থেকেই বন্ধ থাকার কারণে অনেকেই আগেভাগে কেনাকাটা করে গ্রামের বাড়িতে চলে যাবেন। সেই বিষয়টি বুঝতে পেরে দাম ছাড়তে চাইছেন না বিক্রেতারা।
এসব মার্কেটের বিক্রেতারা বলছেন, এবার মানুষের মধ্যে ছিনতাইয়ের একটি আতঙ্ক বিরাজ করছে, যার কারণে অনেকেই দিনের বেলাতে কেনাকাটা করার প্রতি ঝুঁকছেন। এতে করে আবার এই এলাকায় অন্য বছরের মতো মধ্যরাত পর্যন্ত কেনাকাটার পরিবেশে ভাটা পড়েছে। আবার ব্যবসায়ী ও দোকানিরাও কিছুটা আতঙ্কে সময় পার করছেন। সেজন্য, আগের তুলনায় এবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও বেশি জোরদার করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে, এবারের ঈদ কেনাকাটায় নগরীর নিরাপত্তা শঙ্কা রয়েছে কিনা জানতে চায়লে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপির) এক কর্মকর্তা দৈনিক প্রতিদিনের কাগজকে জানায়– কেনাকাটা করতে আসা মানুষজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয় চট্টগ্রাম দেশের অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো দাবি করে জানান আমাদের এখানে অপরাধের পরিমাণ নগণ্য। তারপরও কেনাকাটা করতে আসা মানুষজনের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা আরও সতর্ক হয়েছি। পুরো এলাকাজুড়ে দশটি স্পটে অবজারভেশন ফোর্স কাজ করছে। চারটি পেট্রোল টিম সার্বক্ষণিকভাবে ঘুরেফিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। একইসঙ্গে মোবাইল-টাকা চুরিসহ ছোটখাটো অপরাধ ঠেকাতে সাদা পোশাকেও পুলিশ সদস্যরা মাঠে কাজ করছে বলে জানায় সিএমপির ঐ কর্মকর্তা।
আপনার মতামত লিখুন :