বগুড়ার শিবগঞ্জে ৪ শত বছরের পুরনো গাংনগর মেলা

মোঃ আব্দুল মোমিন পিয়াস , বগুড়া জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল, ২০২৫, ০৫:২৯ পিএম

ছবি: প্রতিদিনের কাগজ

বগুড়ার শিবগঞ্জে ৪০০ বছর ধরে বৈশাখ মাসের ১ম সোমবার অথবা বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ঐতিহ্যবাহী গাংনগর মেলা। এবার মেলায় প্রাণের সমাহার পরিলক্ষিত হয়েছে।  গাংনগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠসহ বিশাল জায়গা জুড়ে বসেছে মেলার হরেক রকমের দোকানপাট। ঐতিহ্যবাহী এ মেলা উপলক্ষে আশেপাশের প্রায় শতাধিক গ্রাম জুড়ে চলে উৎসবের আমেজ।
 
গাংনগর মাঝপাড়া গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা সোলাইমান আলী জানান, এ মেলা ৪০০ বছরের পুরোনো। একসময় এই মেলার মূল আকর্ষণ ছিল হলুদ, রসুন, শুকনা মরিচসহ হরেক রকমের মসলার পাইকারি ও খুচরা বেচাকেনা। গ্রামের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত মসলা ও পণ্য মেলায় বিক্রি করে মাটির হাঁড়িতে রসগোল্লা কিনে বাড়িতে ফিরতো। এছাড়া মেলায় কাঠের আসবাবপত্র, মাছ, মিষ্টি, বিভিন্ন খেলনার দোকানসহ বিনোদনের জন্য যাত্রা সার্কাস, পুতুলনাচের আয়োজন থাকতো। প্রায় ৪০০ বছর আগে এখানে 'শিবসাগর' নামে ১৮ বিঘা আয়তনের একটা পুকুর খনন করা হয়।
 
কথিত আছে, শিবের জল খাওয়ার জন্য একজন হিন্দু জমিদার এই পুকুর খননের পর শিবপূজার মাধ্যমে মেলার গোড়া পত্তন হয়।মেলা কমিটি সূত্রে জানা যায়, এবার বৈশাখ মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী এই মেলা। মেলা উপলক্ষে উৎসবের কোন কমতি নেই। মেলা উপলক্ষে আশেপাশের গ্রামের আত্মীয়-স্বজনদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। জামাইরা বড় বড় মাছ কিনে, মাটির হাঁড়িতে মিষ্টি কিনে শ্বশুরবাড়ি নিয়ে আসেন। 
 
গত শুক্রবার বিকেলে মেলা ঘুরে দেখা যায়, গাংনগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বসেছে মেলার মূল অংশ। তবে মেলার পরিধি ছড়িয়ে পড়েছে ২কিলোমিটার পর্যন্ত। এখনও  আগের মতোই বাহারি রসগোল্লা, নানা পদের মিষ্টির পসরা দেখা যায়। মাটির হাঁড়িতে বিক্রি হচ্ছে রসগোল্লা। আছে নিমকি, খাজা, কদমা, খাগড়াই, বাতাসা, জিলাপি, হাতি ঘোড়ার ছাঁচ, মুড়ি-মুড়কি, মাছ আকৃতির মিষ্টি, বালিশ মিষ্টিসহ হরেক রকমের মিষ্টি পণ্য। মেলায় মিষ্টির পাশাপাশি বিভিন্ন আসবাবপত্র, মশলা, ছোটদের খেলনা সহ বড় বড় মাছের দোকান বসেছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখরিত মেলা প্রাঙ্গন। বিনোদনের জন্য সার্কাস ও হোন্ডা খেলার ব্যবস্থা রয়েছে।
 
দেউলী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম  বলেন, এবার বৈশাখ মাসের প্রথম দিন ছিলো সোমবার এই কারনে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে মেলা। মেলা উপলক্ষে স্বামী-সন্তানসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মেয়েরা বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। মেলা উপলক্ষে আত্মীয়স্বজনেরাও নিমন্ত্রণ খেতে আসেন।শিবগঞ্জ  উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে মেলাটি পরিদর্শন করা হয়েছে। এবারের মেলার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে দেওয়া হয়েছে একগুচ্ছ নির্দেশনা। মেলা উপলক্ষে সারা উপজেলায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

Link copied!