কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও কম্পিউটার কেনাকাটায় বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার নামে অতিরিক্ত মূল্য দেখানো, নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ এবং বিল পরিশোধে অসংগতি থাকার প্রমাণ পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সূত্র জানায়, কলেজে সরবরাহের জন্য টেন্ডার অনুযায়ী এইচপি ব্র্যান্ডের ১২তম জেনারেশনের ২০০টি ডেস্কটপ কম্পিউটার কেনার কথা থাকলেও সরবরাহ করা হয়েছে পুরনো ও ব্র্যান্ডবিহীন কম্পিউটার। এসব কম্পিউটারে ছিল না চুক্তিমতো কোর আইথ্রি প্রসেসর, ৪ জিবি র্যাম, ১০০০ জিবি হার্ডডিস্ক বা ফুল এইচডি মনিটর। অনেক কম্পিউটার এখন অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। এতে সরকারের প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়াও, ৬ হাজার জিপিডি ক্ষমতাসম্পন্ন পানি বিশুদ্ধকরণ যন্ত্রের বদলে সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ১২০০ জিপিডি’র একটি ইউনিট, যা এখনো স্থাপন করা হয়নি। এ ক্ষেত্রে প্রায় ৫০ লাখ টাকার অপচয় হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ডিজিটাল ডুপ্লিকেট যন্ত্রের জায়গায় দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানের ফটোকপি মেশিন, এতে আরও ৪ লাখ টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ মে নিউরোসার্জারি বিভাগের জন্য ১৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকার ১৯টি যন্ত্রপাতি কেনা হয়। চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ সম্পূর্ণ না হলেও ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর বিল পরিশোধ করা হয়। এমনকি সেই সময় পর্যন্ত কোনো সার্ভে রিপোর্ট বা যন্ত্রপাতির রেজিস্ট্রেশনও সম্পন্ন হয়নি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের মার্চে সার্ভে রিপোর্ট জমা পড়ে।
জানা গেছে, যন্ত্রপাতির মধ্যে রয়েছে ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকার ইমেজ গাইডেড নিউরো নেভিগেশন সিস্টেম, ৪১ লাখ টাকার ইলেকট্রিক ড্রিল সিস্টেম, ৩ কোটি ৪২ লাখ টাকার স্পাইনাল ও থ্রিডি মাইক্রোস্কোপ, ৮৫ লাখ টাকার মিনিমালি ইনভেসিভ সার্জারি যন্ত্র, ৩০ লাখ টাকার পেডিকল স্ক্রু সেট এবং ৪৮ লাখ টাকার এসিডিএফ ইনস্ট্রুমেন্ট।
এ ছাড়া মেডিকেল কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ২০১২ সালে শুরু হওয়া ৬১৪ কোটি টাকার প্রকল্পে ভবন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৪৮৫ কোটি টাকা এবং যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র কেনায় ১২৯ কোটি টাকা। শুধু টাইলস লাগানো ও বেজমেন্ট নির্মাণ কাজেই প্রায় ৫ কোটি টাকার লোপাট হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের কয়েকজন প্রকৌশলীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের কুষ্টিয়া কার্যালয়ের উপপরিচালক মাঈনুল হাসান রওশনী বলেন, "কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে ভবন নির্মাণসংক্রান্ত একটি অনিয়মের তদন্ত আগেই চলছিল। এখন যন্ত্রপাতি ক্রয় সংক্রান্ত নতুন অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে।
সম্মিলিত সামাজিক জোট, কুষ্টিয়ার চেয়ারম্যান ড. আমানুর আমান বলেন, “প্রথম থেকেই এ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি হয়ে আসছে। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
সরকারি অর্থে চিকিৎসা সেবা উন্নয়নের নামে এমন দুর্নীতি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :