শূন্য থেকে সম্পদের পাহাড়, এএসআই মান্নানের আয়ের উৎস কী?

স্টাফ রিপোর্টার , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট, ২০২৫, ০৫:৪০ পিএম

ছবি- প্রতিদিনের কাগজ

টাঙ্গাইলের কালিহাতীর বাশি গ্রামের পুলিশ সদস্য এএসআই রাশেদুজ্জামান মান্নান বর্তমানে কর্মরত আছেন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে। গত কয়েক বছরে তিনি এলেঙ্গা পৌরসভা ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ৫০০ শতাংশ জমি কিনেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব জমির বাজারমূল্য শতকোটি টাকারও বেশি। এ বিপুল সম্পদের উৎস কী, তা খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

এএসআই মান্নান কালিহাতীর বাশি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা জিন্নত আলীর ছেলে। এলাকাবাসীর দাবি, তার বাবা একসময় দারিদ্র্যের সঙ্গে সংসার চালাতেন। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় চাকরিতে যোগ দিয়ে মান্নান শূন্য থেকে গড়ে তোলেন বিপুল সম্পদ। তার বোন ও বোন জামাইয়ের নামেও ব্যাংক হিসাব খুলে সেখানে অবৈধ অর্থ জমা রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এলেঙ্গা পৌরসভার সাহাপাড়া, এলেঙ্গা হাই স্কুলসংলগ্ন এলাকা, বাজার ও মসজিদের পাশে, বাশি গ্রামের বিভিন্ন স্থানে শত শত শতাংশ জমি কিনেছেন মান্নান। এছাড়া এলেঙ্গা ব্রিজের পশ্চিম পাশে প্লট, বাড়ি ও দোকান রয়েছে তার নামে। ঢাকা শহরেও নামে-বেনামে ফ্ল্যাট, বাড়ি ও গাড়ি আছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এলেঙ্গা গরুর হাটের পাশে ১৫.৭ শতাংশ জমিতে টাঙানো হয়েছে সাইনবোর্ড— ‘জমি বিক্রি করা হবে, যোগাযোগ মান্নান পুলিশ।’ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভাড়াটিয়ারা জানিয়েছেন, এসব জমি ও দোকান কয়েক কোটি টাকায় লেনদেন হয়েছে।

এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, এএসআই মান্নান তার প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল করেন এবং ভিন্নমত প্রকাশকারীদের পুলিশ দিয়ে হয়রানি করেন। কয়েকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি জানান, বাশি ও আশপাশের এলাকায় মান্নান অন্তত ৫০০ শতাংশ জমি কিনেছেন, যার বাজারমূল্য শতকোটি টাকার উপরে।

অভিযোগ অস্বীকার করে এএসআই রাশেদুজ্জামান মান্নান বলেন, “আমার বেতনের টাকা দিয়ে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। আমার নামে কোনো সম্পত্তি নেই। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।”

Advertisement

Link copied!