কুমিল্লা-৪ দেবিদ্বারে আলোচনার কেন্দ্রে তরুণ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর, ২০২৫, ০৯:০৯ পিএম

হাসনাত আবদুল্লাহ

তোফায়েল আহমেদ, দেবিদ্বার: কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও তরুণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হাসনাত আবদুল্লাহ এখন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার শীর্ষে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবমুক্ত এক বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে তার নাম বারবার উঠে আসছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

সরেজমিনে জানা গেছে, কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি বর্তমানে চার ভাগে বিভক্ত, সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এএফএম তারেক মুন্সী, এবং সাবেক ছাত্রনেতা এমএ আউয়াল খান সহ বেলজিয়াম বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান লিটন এই চারজনের মধ্যে চলছে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা। চারটি গ্রুপই নিজস্ব শক্তি প্রদর্শনে ব্যস্ত, তবে দলীয় ঐক্যের অভাবে ধানের শীষের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হচ্ছে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম শহীদও মাঠে সক্রিয়, ফলে দেবিদ্বারের নির্বাচনী লড়াই হবে ত্রিমুখী। কিন্তু ঠিক এই সুযোগটাই কাজে লাগাতে চাইছেন তরুণ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।

তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক সাহসী মুখ হাসনাত আবদুল্লাহ কোনো উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া রাজনীতিক নন; তিনি নিজ প্রচেষ্টা, পরিশ্রম ও জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। নিয়মিত তৃণমূলে গণসংযোগ, জনদুর্ভোগে সরাসরি অংশগ্রহণ, এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে নিরন্তর সক্রিয়তা—এসবই তাকে সাধারণ মানুষের কাছে একজন বাস্তবসম্মত ও কর্মঠ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। হাসনাত চায়ের দোকানে গিয়ে সবাইকে নিজের নাম্বার দিয়ে বলেন সরাসরি আমাকে কল করবেন।  এই কথাগুলো সাধারণ জনমানুষের কথা।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে তার সক্রিয় ভূমিকা ও নেতৃত্বগুণ নতুন প্রজন্মের মধ্যে তাকে করে তুলেছে অনুপ্রেরণার প্রতীক। তরুণদের মধ্যে রাজনৈতিক উদ্যম ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তিনি ইতিমধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম।

কাজের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা বোধহয় হাসনাতকে দেখলেই বুঝা যায়, দেবিদ্বারের সাধারণ ভোটাররা বলছেন, যিনি একটা জার্সি পরেই দেশের সরকার পরিবর্তন করতে পারে তাকেই তো আমরা ভোট দিব, "যিনি নির্বাচিত না হয়েও এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়নে ১২ কোটি টাকার বরাদ্দ আনতে পারেন, তিনিই প্রকৃত জনপ্রতিনিধি।

এক সময় প্রতিবাদের ভাষায় সড়কে মাছের পোনা ফেলে অভিনব কর্মসূচি করে আলোচনায় আসেন হাসনাত আবদুল্লাহ। সেই আন্দোলনের ফলেই এখন সেই রাস্তায় উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। জনগণ বলছেন, “নেতা বলতে বুঝি যিনি নিজের এলাকার জন্য লড়েন, হাসনাত ঠিক তেমনই একজন।”

স্থানীয় ঠিকাদার, প্রকৌশলী কিংবা সরকারি কর্মকর্তাদের অন্যায় বিলম্বে তিনি সরাসরি হস্তক্ষেপ করে কাজ সম্পন্ন করিয়েছেন, যা সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়িয়েছে।

শিক্ষক, শ্রমিক ও দিনমজুরদের পক্ষে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন হাসনাত। বেতনভাতা বৃদ্ধি, অধিকার আদায় কিংবা সামাজিক ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় তার উপস্থিতি এখন এক পরিচিত দৃশ্য। স্থানীয়রা বলেন, যে নেতা শিক্ষকদের আন্দোলনে, শ্রমিকদের দাবিতে পাশে দাঁড়ান, তিনি দেবিদ্বারের আসল জননেতা।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “বিএনপির দ্বন্দ্ব যত গভীর হবে, হাসনাতের অবস্থান তত শক্তিশালী হবে। জনগণের আস্থা ও তরুণদের সমর্থন তার পক্ষে কাজ করছে।

দেবিদ্বারের রাজনৈতিক সমীকরণ এখন অনেকটাই পরিবর্তনশীল। যদি বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হতে না পারে, তবে পরবর্তী নির্বাচনে হাসনাত আবদুল্লাহ হতে পারেন সবচেয়ে বড় চমক।

হাসনাত আবদুল্লাহ কেবল একজন প্রার্থী নন, তিনি এক নতুন ধারা, একজন সাহসী, বাস্তবমুখী ও জনগণকেন্দ্রিক রাজনীতিক। উন্নয়ন, আন্দোলন ও মানবিক নেতৃত্বের মিশেলে গড়ে উঠছে তার নতুন রাজনীতির পথ, যা দেবিদ্বারকে এগিয়ে নিতে পারে এক নতুন সম্ভাবনার দিকে।

Advertisement

Link copied!