কক্সবাজারে জিয়ার বিরুদ্ধে ডিসি, এসপি ও র‍্যাব-১৫ অধিনায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ

আতিকুর রহমান , ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৪ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম

কক্সবাজারের সদর উপজেলা চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনীর দৌরাত্ম্যে এলাকাবাসী চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত জিয়াউল হক জিয়া ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের তিন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সম্প্রতি ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং র‍্যাব-১৫ এর অধিনায়ক বরাবর পৃথকভাবে এই অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জিয়াউল হক জিয়ার বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানাসহ বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, মাদক, ডাকাতি, অপহরণ ও সহিংসতাসহ অন্তত ৪৮টি মামলা রয়েছে। এতগুলো মামলা থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রকাশ্যে এলাকায় অবস্থান করে তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, জিয়াউল হক জিয়ার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি দখল, মাদক পাচার ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তার বাহিনীর ভয়ে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও মৎস্যজীবীরা কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

ভুক্তভোগী রবিণ আলম জানান, গত ১২ মার্চ রাতে জিয়াউল হক জিয়ার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তাকে ও আরও দুইজন মৎস্য ব্যবসায়ীকে চাঁদার দাবিতে মারধর করে গুরুতর আহত করে। এ ঘটনায় ১৬ মার্চ কক্সবাজার সদর থানায় তিনি বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। তবে মামলা করার পর থেকেই তিনি ও তার পরিবারকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এছাড়াও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২২ মার্চ জকির আহমদ নামে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে অপহরণ করে নিয়ে যায় জিয়ার বাহিনী। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। এই ঘটনাতেও পৃথক একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসীরা এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি বর্ষণ এবং মৎস্য প্রকল্প দখলের মতো ভয়ঙ্কর কর্মকাণ্ড চালিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্ত্রাসীদের ভয়ে তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, প্রাণভয়ে অনেকেই ঈদের নামাজ আদায় করতেও নিজ এলাকায় যেতে সাহস পাননি। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, ৪৮টি মামলার আসামি হওয়ার পরও জিয়াউল হক জিয়া প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোয় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, দ্রুত তাকে ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং চৌফলদন্ডী এলাকায় স্থায়ী শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হোক।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও র‍্যাব-১৫ এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।

কক্সবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সমি উদ্দিন বলেন, "আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জিয়াউল হককে গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশের পক্ষে থেকে অভিযান অব্যাহত রেখেছি।"

এ বিষয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ. এন. এম. সাজেদুর রহমান বলেন, "আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে দেখব।"

Advertisement

Link copied!