পদোন্নতি বঞ্চিত পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তারা এখনো চক্রান্তের শিকার

নিজস্ব সংবাদদাতা , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১০ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:২০ পিএম

ড. আশরাফুর রহমান (বামে), মো. নাজমুল করিম খান (মাঝে), মোঃ ফারুক আহমেদ (ডানে)।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৪ মাস পার হলেও প্রভাবশালী একটি চক্রের চক্রান্তে এখনো লাঞ্ছিত হচ্ছেন নিষ্ঠাবান ও পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তারা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের নজরের বাইরে থেকে একটি সংস্থার এক শীর্ষ কর্মকর্তা ও তাঁর সহযোগীরা আওয়ামী সরকারের সময় পদোন্নতি বঞ্চিত এবং চাকরিচ্যুত বিএনপি সমর্থক বা ছাত্রদল সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের টার্গেট করে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তাদের মূল উদ্দেশ্য আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব কর্মকর্তাদের মাঠের দায়িত্ব থেকে দূরে রাখা।

সোমবার গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) সাবেক কমিশনার ড. মো. নাজমুল করিম খানকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে সই করেন সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি।

এর আগে গত মার্চ মাসে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি ড. আশরাফুর রহমানকে হঠাৎ করেই পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি করা হয় কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই। একইভাবে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) ফারুক আহমেদকেও পরবর্তীতে র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এদের সবাই ছিলেন আওয়ামী সরকারের সময় পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তা।

পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, একটি পত্রিকার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো তদন্ত ছাড়াই একজন ডিআইজিকে বরখাস্ত করা পেশাদার পুলিশ প্রশাসনের জন্য উদ্বেগজনক। এ ধরনের সিদ্ধান্ত পুলিশের চেইন অব কমান্ড দুর্বল করবে এবং সুযোগ করে দেবে ফ্যাসিস্ট প্রভাবিত কর্মকর্তাদের।

সূত্র জানায়, ১৫তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা ডিআইজি ড. আশরাফুর রহমান ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ রেঞ্জে যোগদানের পর থেকে পুলিশ বাহিনীর মনোবল পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি মাদকবিরোধী অভিযান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতামূলক সভা ও ‘রেঞ্জ বুলেটিন’ প্রকাশের মাধ্যমে পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ডেভিল হান্ট অভিযানে তিনি প্রায় ৬০০-এর বেশি নিষিদ্ধ আওয়ামী ফ্যাসিস্টকে গ্রেপ্তার করেন। আইনশৃঙ্খলা নিরাসনে বেশ প্রশংসিত হয়েছিলেন তিনি। 

অন্যদিকে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) ফারুক আহমেদ আওয়ামী সরকারের পতনের পর পুলিশ পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের পর তার কার্যকর নেতৃত্বে পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার হয়। তবুও তাকে পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে র‍্যাবে বদলি করা হয়, যা অনেকের কাছে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবেই প্রতীয়মান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার (বর্তমানে সদর দপ্তরে প্রত্যাহৃত) মো. নাজমুল করিম খানকে জনস্বার্থে সরকারি কর্ম থেকে বিরত রাখা আবশ্যক। সেহেতু তাকে সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত থাকবেন এবং বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।

ড. নাজমুল করিম খান ১৫তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা, যিনি জাপান থেকে কৃষিতে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন। আওয়ামী সরকারের সময় ২০২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সিআইডির ফরেনসিক বিভাগে কর্মরত থাকা অবস্থায় তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

পরে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী সরকারের পতনের পর পুনরায় চাকরিতে ফেরেন এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পান। তবে গত ১ সেপ্টেম্বর তাকে আবারও প্রত্যাহার করে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয় এবং সর্বশেষ ১০ নভেম্বর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

Advertisement

Link copied!