তোফায়েল আহমেদ, দেবিদ্বার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে মাঠে নামছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি'র দক্ষিণাঞ্চল মুখ্য সংগঠক ও ছাত্রনেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাজধানীর বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে এনসিপির প্রথম ধাপের মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করা হয়। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে দেবিদ্বার আসনের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয় দলটি।
এর আগে, গত ৩ নভেম্বর এই আসনের জন্য প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে বিএনপি। তালিকায় উঠে আসে সাবেক চারবারের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির নাম। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে জানান, দেবিদ্বার-৪ আসনে দলটি মুন্সিকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই আসনে ইসলামি রাজনৈতিক দল জামায়াতও মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে। মনোনয়ন পেয়েছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহিদ।
অর্থাৎ দেবিদ্বার-৪ আসনে বড় দুই বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহও তৈরি করছেন শক্ত অবস্থান। স্থানীয় ভোটারদের মাঝে ইতোমধ্যে তার প্রার্থীতাকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।
হাসনাত আবদুল্লাহ শুধু রাজনৈতিক কর্মী নন—তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সক্রিয় ছাত্রনেতাদের একজন হিসেবে দেশব্যাপী পরিচিতি পান। বর্তমানে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একইসঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে তিনি দলের তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
দেবিদ্বারবাসীর দীর্ঘদিনের উন্নয়ন ও অধিকার বঞ্চনার বিষয়কে সামনে রেখে হাসনাত আবদুল্লাহ নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন বলে জানান দলীয় নেতাকর্মীরা। তরুণদের রাজনীতি, দুর্নীতি দমন, শিক্ষা–স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার প্রসার—এসবকে তিনি তার নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, ঐতিহ্যবাহী ও সমীকরণপূর্ণ এই আসনে আসন্ন নির্বাচনে হবে তিন শক্তির বড় লড়াই—বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি'র মধ্যে। আর সেই লড়াইয়ে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী প্রার্থী হিসেবে হাসনাত আবদুল্লাহ দেবিদ্বারের ভোটারদের সামনে নতুন বিকল্প হিসেবে হাজির হয়েছেন।
রাজনীতির মাঠে তার এই যাত্রা সফল হবে কিনা—সেটি নির্ভর করছে জনগণের সিদ্ধান্তের ওপর। তবে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে তার পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
আপনার মতামত লিখুন :