ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস' অ্যাসোসিয়েশন অব উখিয়া-টেকনাফ (ডুসাট)-এর উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে এক আন্তরিক ও মর্যাদাপূর্ণ ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে সোমবার, ২রা মার্চ ২০২৬। রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত University of Dhaka-এর Institute of Social Welfare and Research অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি রূপ নেয় উখিয়া-টেকনাফের প্রবাসী শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানে উখিয়া ও টেকনাফের কৃতি সন্তান, শিক্ষাবিদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আইনজীবী ও সমাজসেবকসহ নানা শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের এআইজি জনাব মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ, নায়েমের মাস্টার ট্রেইনার জনাব মোজাফফর আহমদ, সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ও সমাজসেবক জনাব সালাউদ্দিন সিকদার এবং সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক জনাবা ড. মাহবুবা সুলতানা।
অনুষ্ঠানে ডুসাট-এর বিভিন্ন সময়ের কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ, সাবেক সদস্য, বর্তমান শিক্ষার্থী, উপদেষ্টা ও শুভাকাঙ্ক্ষীগণ অংশগ্রহণ করেন। সংগঠনের সভাপতি সাজ্জাদ হোছাইন রবিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খল ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
ইফতার পূর্বে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরবর্তীতে অতিথিবৃন্দ সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, নেতৃত্বগুণ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করেন। বক্তারা বলেন, উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চল নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সম্ভাবনাময়, আর সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে শিক্ষিত তরুণ সমাজকেই এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাবেক উপদেষ্টা মরহুম নজির আহমেদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। তাঁর শিক্ষা, সততা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়।
ডুসাট নেতৃবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে বলেন, ডুসাট কেবল একটি ছাত্র সংগঠন নয়, এটি উখিয়া-টেকনাফের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে পারস্পরিক সহযোগিতা, একাডেমিক সহায়তা, ক্যারিয়ার গাইডলাইন এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়। ভবিষ্যতে মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি, ক্যারিয়ার কর্মশালা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণের প্রত্যয়ও ব্যক্ত করা হয়।
সবশেষে ইফতার ও মোনাজাতের মাধ্যমে দেশ, জাতি ও বিশেষ করে উখিয়া-টেকনাফবাসীর কল্যাণ কামনা করা হয়। উপস্থিত অতিথি ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি এক উষ্ণ পারিবারিক আবহ সৃষ্টি করে যা প্রমাণ করে, দূরত্ব যতই হোক, হৃদয়ের বন্ধন অটুট।
এই আয়োজন শুধু একটি ইফতার মাহফিল নয়, বরং ছিল ঐক্য, কৃতজ্ঞতা ও আগামী দিনের নেতৃত্ব গঠনের এক দৃঢ় অঙ্গীকার।
আপনার মতামত লিখুন :