পোল্ট্রি ফার্মের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ বান্দরবানের সুয়ালক ইউনিয়নের বাসিন্দারা

মোঃ হাসান , বান্দরবান, জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০২ মার্চ, ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম

বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বঙ্গপাড়া এলাকার একটি পোল্ট্রি ফার্মের তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফার্মের মুরগির বিষ্ঠা যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করায় চারপাশে অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে, যা রমজান মাসে বসবাসকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বঙ্গপাড়া এলাকার প্রবেশমুখে অবস্থিত মির্জাখীল নাছির উদ্দিন পোল্ট্রি ফার্মের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অবহেলার অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফার্মের আশপাশে যত্রতত্র মুরগির বিষ্ঠা পড়ে থাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

এতে সুয়ালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। প্রতিদিন যাতায়াতের সময় চরম দুর্ভোগের কথা জানিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. নাঈম বলেন, “গন্ধ এত বেশি যে নাক চেপে রাস্তা দিয়ে যেতে হয়।”

ফার্মের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে সুয়ালক খাল। স্থানীয়দের অভিযোগ, মুরগির বিষ্ঠা ও অন্যান্য বর্জ্য খালে ফেলে দেওয়ার কারণে খালের পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। অথচ এই খালের পানি সুয়ালক ও বঙ্গপাড়ার আশপাশের বাসিন্দারা গোসল, ধোয়ামোছা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করেন।

স্থানীয়দের দাবি, দূষিত পানির কারণে চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। স্থানীয় বাসিন্দা মংক্যাউ মারমা বলেন, “ফার্মের তীব্র দুর্গন্ধে এখানে থাকা যায় না। অনেক কষ্ট করে পরিবার নিয়ে বসবাস করছি।”

এ বিষয়ে পোল্ট্রি ফার্মের পরিচালক মো. জাফর বলেন, “দুর্গন্ধ না ছড়ানোর জন্য আমরা সবসময় চেষ্টা করি। বিষ্ঠাগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলা হয়। তবুও যদি অসাবধানতাবশত খালে পড়ে গিয়ে থাকে, ভবিষ্যতে যাতে এমন না হয়, সেদিকে আরও সতর্ক থাকবো।”

তবে ফার্মের মালিক মো. নাছির উদ্দিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফা সুলতানা খান হিরামনি বলেন, “সুয়ালক ইউনিয়নের বঙ্গপাড়া এলাকায় পোল্ট্রি ফার্মের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগের বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি হয়—এমন কোনো কার্যক্রম বরদাস্ত করা হবে না। প্রমাণ পাওয়া গেলে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Link copied!