ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে একটি পরিবারের মাত্র তিন শতক জায়গা দখল করতে ১৬ বছর ধরে প্রতিবেশীদের হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। আদালতের রায়ে পরাজিত হয়ে ভূমিদস্যু মহাসিন ও তার স্ত্রী শাহানা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন বলে জানা গেছে। বিতর্কিত মামলাবাজ শাহানার পরিবারের বিরুদ্ধে এলাকার মানুষও মুখ খুলেছেন।
জমিটি নিয়ে প্রকৃত মালিক হনুফা বেগম আদালতে আপিল করলে তাদের পক্ষে রায় আসে। এরপর মারামারি ও হুমকির মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর বাড়ি দখলবাজ পাড়াতলী গ্রামের মহাসিন মিয়ার স্ত্রী শাহানা বেগম বাদী হয়ে প্রতিবেশী মৃত আবদুল মান্নানের ৪ ছেলে ও ৩ মেয়েকে আসামি করে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় একটি মামলা করেন। আসামিরা হলেন- পাড়াতলী গ্রামের পূর্বপাড়ার মৃত মান্নান মিয়ার ছেলে আতাউর মিয়া, মেয়ে হনুফা বেগম, ইভা আক্তার, মজিবর মিয়া, তৈয়বুর মিয়া, সেলিম মিয়া ও মেয়ে হাফসানা বেগম।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার পাড়াতলী গ্রামের আবদুল মান্নানের বড় মেয়ে হনুফা বেগম ২০০৯ সালে প্রতিবেশী মহাসিনের ছোট ভাই ইব্রাহিম মিয়ার কাছ থেকে ৩ শতক জায়গা কেনেন। সেই জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে নানানভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
এই ঘটনার জের ধরে পাড়াতলী গ্রামের মহাসিন মিয়ার স্ত্রী শাহানা বেগম বাদী হয়ে ২০০৯ সালে একটি ভুয়া স্ট্যাম্প বানিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর দেওয়ানী আদালতে ৮০ নম্বর মামলা করেন। প্রতারক বাদী শাহানা বেগম দীর্ঘদিন ধরে দখলে আছেন বোঝাতে মামলার এজাহারে মিথ্যা বর্ণনা লেখেন যে, ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি তার দেবর ইব্রাহিম জমি বিক্রি করেন। কোনো দলিল দেখাতে না পেরে একটি স্ট্যাম্পে ভুয়া স্বাক্ষরে বিক্রি করেছেন বলে দাবি করেন। বাস্তবে এটি সম্পূর্ণ ভুয়া।
দীর্ঘ ১৬ বছর কমিয়ে দেখিয়েছেন। জায়গার মালিক ইব্রাহিম হলেও, কোনো ঝামেলা থাকলে মামলা করার কথা ছিল তার বা তার স্ত্রীর। কিন্তু ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে বিবাদী পক্ষকে নোটিশ গোপন রেখে প্রথমে শাহানার পক্ষে রায় নেয়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে হনুফা বেগম ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে আপিল করলে ২০২২ সালে তার পক্ষে রায় আসে।
অবশেষে ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর বাড়ি দখলকারী শাহানা বাদী হয়ে প্রতিবেশী মৃত আবদুল মান্নানের বড় মেয়ে হনুফা বেগমসহ সকল সন্তানদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। স্থানীয়ভাবে মিটিং করে ও প্রভাবশালীদের দিয়ে জায়গাটি শাহানাদের কাছে বিক্রি করার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। হনুফার সরকারি চাকরিজীবী দুই বোন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার মোসাম্মদ হাফসানা আক্তার ও কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার ইভা আক্তার এবং এমপিওভুক্ত মাদরাসার শিক্ষক মো: মজিবুর রহমানকেও এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। শাহানা ও তার স্বামী আরো মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করার হুমকি দিচ্ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে মিথ্যা মামলার ৫ নম্বর সাক্ষী জসিম মিয়ার স্ত্রী তামান্না আক্তারের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, "মামলা হয়েছে শুনেছি কিন্তু মান্নান মিয়ার ছেলে-মেয়েরা মারামারি করতে দেখিওনি বা শুনিওনি।"
এবিষয়ে মামলার ৩ নম্বর সাক্ষী বাতেন মিয়ার ছেলে মাইন উদ্দিন মিয়া বলেন, "আমি যে সাক্ষী আমি নিজেই তো ঘটনার বিষয়ে কিছু জানি না। আমাকে কেন সাক্ষী দিলো বুঝতে পারলাম না।"
দখলকারী শাহানার প্রতিবেশী আলী আকবর বলেন, "বাদী চাইছে মান্নান মিয়ার ছেলে-মেয়েরা টাকা দিয়ে জায়গাটা কিনে নেবে। তারপরে সব মামলা তুলে নেবে এইটা হলো আসল কাহিনী। কোনো মারামারি ঘটনা ঘটেনি তারপরেও ঘটনা সাজিয়ে মামলা করেছে।"
বাদী শাহানার স্বামী মহাসিন মিয়া বলেন, "আমি কিছু জানি না, কিছু বুঝি না। আমার বউ সব জানে।"
এবিষয়ে রায় পাওয়া জায়গার প্রকৃত মালিক হনুফা বেগম বলেন, "জোর করে জায়গা নেওয়ার জন্য আমরা ৭ ভাই বোনকে মিথ্যা হয়রানিমূলক মারামারির হুমকি দিয়ে হয়রানি করছে। মানুষ দিয়ে হুমকি দিচ্ছে। টাকার গরমে মানুষকে মানুষ মনে করে না মহাসিন মিয়া ও তার বউ।"
এবিষয়ে ইভা আক্তার বলেন, "আমরা দুই বোন সরকারি চাকরি করি আরেক ভাই মাদরাসার শিক্ষক তাছাড়া সবাই যার যার কাজকর্ম নিয়ে ব্যস্ত। অযথা হয়রানি করতেছে মূলত জায়গাটা নেওয়ার জন্য।"
আপনার মতামত লিখুন :