কুমিল্লার চান্দিনা থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে ধারাবাহিক তিনটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাকে ক্লোজড করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করেছে পুলিশ প্রশাসন। বুধবার কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নির্দেশনা জারি হয়।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ এবং গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—সদ্য সাবেক ওসি জাবেদ উল ইসলাম ও এসআই ইমামের বিরুদ্ধে ঘুষ–বাণিজ্য, দালাল সিন্ডিকেট পরিচালনা, মামলা নিয়ন্ত্রণে ভয়ভীতি প্রদর্শন, সাধারণ মানুষকে হয়রানি, সালিশ–বিচারের নামে অর্থ আদায় এবং ‘কথিত বিচারক’ নিয়োগ দিয়ে বিচার–বাণিজ্য চালানোর মতো গুরুতর অভিযোগ।
অভিযোগকারীরা জানান, এই দু’জন কর্মকর্তা থানায় যোগদানের পর এলাকায় চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক লেনদেন ও জমি-বিরোধজনিত অপরাধের মাত্রা বাড়তে থাকে।
স্থানীয়দের দাবি—ওসি ও এসআই মিলে একটি সুসংগঠিত “সিন্ডিকেট বাহিনী” গড়ে তোলেন, যারা টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার করত।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তিন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন,
১) “কুমিল্লার চান্দিনায় মাদকসহ দুই যুবক গ্রেপ্তারের পর ৬০ হাজার টাকায়
মুক্তি দেওয়ার অভিযোগ” (১০ ডিসেম্বর)
২) “চান্দিনায় পুলিশের উস্কানিতে প্রতিপক্ষের দফায় দফায় হামলা: আহত ৩, আদালতে
অভিযোগের ঝড়” (৫ ডিসেম্বর)
৩) “চান্দিনা থানার ওসি–এসআইয়ের অপকর্মে উত্তপ্ত এলাকা, সাংবাদিকের অভিযোগ
আইজিপির কাছে” (৩ ডিসেম্বর)
প্রতিবেদনগুলো প্রকাশের পর বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। পরে এসআই ইমামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অপরদিকে অভিযুক্ত ওসি জাবেদ উল ইসলামকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ৬ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থানায় বদলি করা হয়।
জানা গেছে, কনস্টেবল থেকে পদোন্নতি পাওয়া এসআই ইমাম ২০১৮ সালে কুমিল্লায় যোগ দিয়ে টানা সাত বছর একই জেলায় কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘদিন একই স্থানে থাকায় তিনি স্থানীয় বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকা ঢাকা রেঞ্জের পলাতক সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলেও স্বীকার করেছেন ইমাম। নুরুল ইসলাম কুমিল্লার পুলিশ সুপার থাকা অবস্থায় তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়।
উল্লেখ্য, সৈয়দ নুরুল ইসলাম ২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট কুমিল্লার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং টানা দুই বছর পাঁচ মাস দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও পরে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি পদে দায়িত্ব পান। তবে ৫ আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর তাকে ঢাকা রেঞ্জ থেকে সরিয়ে সারদায় সংযুক্ত করা হলেও সেখানে তাকে দায়িত্ব গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :