ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ অংশে ডাকাতির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কোনোভাবেই এই প্রবণতা রোধ করা যাচ্ছে না। ডাকাত দলের প্রধান টার্গেট প্রবাসীদের গাড়ি, এরপর দামি প্রাইভেট কার ও অপরিচিত মানুষ। ফলে রাতের বেলায় যাত্রী ও যানবাহনের চালকদের কাছে মহাসড়ক এখন এক আতঙ্কের জনপদ হয়ে উঠেছে।
মহাসড়কের মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় রাত বারোটার পর চলাচলকারী যানবাহন থামিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাত দল যাত্রীদের সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে।
থানা পুলিশের তথ্যমতে, গত তিনদিনে মহাসড়কের কোথাও ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। তবে বিগত ডিসেম্বরে এক কুড়ির বেশি ডাকাতি সংঘটিত হলেও থানায় মাত্র একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ জানায়, বিভিন্ন সময় ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও থানায় মামলা করতে কেউ আসে না, ফলে ডাকাতির বিষয়ে তাদের জানা থাকে না এবং ব্যবস্থা নিতেও পারছেন না। তবে বিভিন্ন সময় সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতির খবর পাওয়া যায়, সেই অনুযায়ী তদন্ত শুরু হয়।
এছাড়াও পুলিশ জানায়, বিগত এক মাসে মহাসড়কে ডাকাতির অভিযোগে ১৩ জনকে মামলা দিয়ে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তার জন্য সোনারগাঁ থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ যথাযথভাবে টহলদারি জোরদার করেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। খুব শীঘ্রই বাকি অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মহাসড়কে ডাকাতির বিষয়ে সোনারগাঁ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহিবুল্লাহ বলেন, "আমি আসার পর মহাসড়কে ১৩ জনকে ডাকাতির দায়ে আদালতে প্রেরণ করেছি। আমাদের টিম রাতের বেলায় জোরদার টহলদারি করছে। আশা করি বাকিদেরকে খুব শীঘ্রই গ্রেফতার করতে সক্ষম হব। যদি এলাকাবাসী ও সচেতন মহল আমাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে, তাহলে মহাসড়কে ডাকাতির খবর আর পাওয়া যাবে না। তাই সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।" তিনি আরও জানান, একই আসামি একাধিকবার ধরে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করার পর জামিনে এসে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। পুলিশ তাদের সবটুকু চেষ্টা দিয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার সব রকমের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :