পাটগ্রামে সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের, সরকারি সহায়তা অব্যাহত

রাকিব ইসলাম , পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৫:২২ পিএম

লালমনিরহাটের পাটগ্রামের বুড়িমারী ইউনিয়নে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ২ একর জমিতে বারি সরিষা-১৪ ক্লাস্টার সরিষা প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে। ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণ ও সরিষার লাভজনক দিক বিবেচনায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়াতে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

এর আগে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের বিনামূল্যে সার ও সরিষা বীজ সরবরাহ করা হয়। এ বছর সরিষা চাষের ওপর কৃষকদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ এবং সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

প্রদর্শনীভুক্ত কয়েকজন কৃষক এবং সংশ্লিষ্ট ব্লকের দায়িত্বরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এবং প্রদর্শনী পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বুড়িমারী ইউনিয়নের কৃষক গোলজার জানান, আমন ধান কাটার পর এই জমিগুলো গত বছরও ফাঁকা পড়ে ছিল, কিন্তু এবারই প্রথম প্রণোদনা কর্মসূচির মাধ্যমে অনাবাদি পতিত জমিতে সরিষার বীজ বপন করা হয়েছে।

কামারেরহাট ব্লকের কৃষক সাদিকুল ইসলাম অন্তর বলেন, "মাত্র ৭৫ থেকে ৮০ দিনের জীবনকাল সম্পন্ন এই জাতের সরিষা হাতে পেয়ে আমি খুশি এবং পরবর্তী বছরেও সরিষা আবাদ করবো। এটি লাভজনক।" একাধিক কৃষক জানান, সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে তাঁরা ধান চাষের পাশাপাশি সরিষা চাষ করতে পারবেন। ধান চাষে যেমন বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে, একইভাবে কৃষকদের সরিষা চাষের ওপর প্রশিক্ষণ দিলে তাঁরা আরও আগ্রহী হবেন।

এর আগে, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, ফলন কম হওয়া এবং উচ্চ মূল্যের সবজি ও উচ্চ ফলনশীল ইরি ধান চাষের কারণে পাটগ্রাম উপজেলায় সরিষা চাষ ক্রমাগতভাবে কমে যাচ্ছিল, যদিও মাটি ও আবহাওয়া সরিষা চাষের উপযোগী ছিল।

উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব মোস্তফা হাসান ইমাম জানান, ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণে তেল ফসলের আবাদ বৃদ্ধি করা অপরিহার্য। তিনি বলেন, "আমন ধান কাটার পরে সরিষাকে আমরা একটি চান্স ক্রপ হিসেবে গণ্য করি। মাত্র ৮০ দিনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফসল ঘরে তুলতে পেরে কৃষক ভাইবোনেরাও খুশি হয়ে থাকেন। বিভিন্ন প্রকল্প, প্রণোদনা এবং উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে কৃষকের ফসল বিস্তার হবে।"

Link copied!