কাগজে বিকেল ৫টা, বাস্তবে দুপুর ২টায় তালা ঘোড়াঘাট সেটেলমেন্ট অফিসে

মোঃ সুমন মিয়া , ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম

সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রতিটি দপ্তরের অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে সেই নিয়মের কোনো অস্তিত্ব নেই। প্রায় প্রতিদিন নিয়মিতভাবে দুপুর ২টা বা আড়াইটার মধ্যেই অফিস বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চলে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন সেবাপ্রার্থী ও ভুক্তভোগীরা। ফলে ভূমি সংক্রান্ত সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

ঘোড়াঘাট উপজেলা প্রশাসনিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনার তথ্য অনুযায়ী, এখানে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার ৪১৩ জন মানুষের বসবাস এবং উপজেলাটিতে রয়েছে ১১৫টি মৌজা। এত বিপুল জনগোষ্ঠী ও মৌজার ভূমি সংক্রান্ত নামজারি, খতিয়ান সংশোধন, রেকর্ড হালনাগাদসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজের একমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর হলো উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিস। অথচ সেই অফিসই দিনের বড় একটি সময় বন্ধ থাকছে—যা সরাসরি সরকারি সেবাব্যবস্থার ওপর প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করছে।

মঙ্গলবার দুপুর ২টার সময় সরেজমিনে ঘোড়াঘাট উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে গিয়ে দেখা যায়, দুপুর ২টার পর থেকেই অফিসের প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। অফিস কক্ষ ফাঁকা, কর্মকর্তা-কর্মচারীর কোনো উপস্থিতি নেই। সেবা নিতে আসা লোকজন অফিস চত্বরে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেবাপ্রার্থী বলেন, “আমরা কৃষক মানুষ। জমি সংক্রান্ত কাজ করতে এসে বারবার তালা দেখি। অফিস সময় থাকতে অফিস বন্ধ—এটা কি সরকারি নিয়ম? নাকি আমাদের নিয়ে তামাশা?”

সেবাপ্রার্থী ও ভুক্তভোগী আতিয়ার রহমান বলেন, ঘোড়াঘাট সেটেলমেন্ট অফিসে এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিদিন একই চিত্র বিরাজ করছে। অথচ বিষয়টি দেখার বা তদারক করার মতো কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যত কোনো জবাবদিহিতা ছাড়াই দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি বিধি অনুযায়ী অফিস সময়ের আগে দপ্তর বন্ধ রাখা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলেও বাস্তবে তা উপেক্ষিত। এতে প্রশ্ন উঠেছে—কে দেখছে এই অফিস? কার প্রশ্রয়ে দিনের পর দিন এমন অনিয়ম চলতে পারে?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের পেশকার বলেন, “আজকে আমরা ৪ জন অফিশিয়াল কাজে দিনাজপুরে আসছি। অফিসের পিয়ন অফিস খোলা রাখার কথা, কেন রাখেনি বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন বলেন, “জেলা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসারের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”

Link copied!