ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা: শীতের দাপটে দর্শনার্থী কম

সাজেদুর রহমান , রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচলে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার ৩০তম আসর শুরুর দিন থেকেই দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত। এ বছর বাণিজ্যমেলার স্থায়ী প্যাভিলিয়ন পূর্বাচল উপশহরের ৪ নম্বর সেক্টরের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার আগে থেকে পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছিল। এ কারণে আগে থেকেই স্টল বরাদ্দ পেয়ে নির্মাণ কাজ শেষ করতে পেরেছে। ৩ জানুয়ারি থেকে মেলা শুরু হওয়ায় মেলার ৯৫ ভাগ স্টল নির্মাণ সম্পন্ন হয়ে গেছে মেলা শুরু আগেই। এবারের আসরে ৩২৪টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এবার শুরু থেকেই মেলা প্রাঙ্গণ প্রস্তুত হয়ে গেলেও শীতের দাপটে দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল খুবই কম। মেলায় আসা বেশিরভাগ দর্শনার্থীই মেলার শেষের দিকে অতিরিক্ত ছাড়ের আশায় পণ্য কিনছেন না। ঘুরে খেয়ে চলে যাচ্ছে মেলা থেকে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বাণিজ্যমেলা উপলক্ষে পূর্বাচল সেজেছে অপরূপ রূপে। মেলার ভেতরে স্টলগুলোতে ক্রেতা আকৃষ্ট করতে ব্যবসায়ীরা লাল, নীল, হলুদ বাতিসহ নানা রংবেরঙের আলোকসজ্জা করেছে। দেশজুড়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র শীত। তীব্র শীতে জনজীবন ওষ্ঠাগত। এদিকে রবিবার মেলার দ্বিতীয় দিনে বিকেল থেকে দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে দেখা গেছে। মেলায় বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের গৃহস্থালি সামগ্রী, প্রসাধনী, কাপড়, জুতা, খাবারের দোকান, ইলেকট্রনিকস ফার্নিচারসহ বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে রেখেছে ব্যবসায়ীরা। বিগত বছরগুলোতে শুরুর দিকে দর্শনার্থীর সংখ্যা কম থাকলেও এবার অনেক বেশি। তবে ক্রেতার চেয়ে বেশি দর্শনার্থী হওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা হতাশা প্রকাশ করেছে।

এদিন মেলায় বেশি ভিড় দেখা গেছে আইসক্রিম, কাপড় ও গৃহস্থালি দোকানে। এছাড়া মেলায় শিশুদের জন্য করা শিশু পার্কেও ভিড় দেখা গেছে। এছাড়া মেলার ভেতরে পণ্যের মূল্য কয়েক গুণ বেশি ট্যাগ লাগিয়ে বিক্রি হচ্ছে। যে পণ্য বাইরে ৫০০ টাকায় পাওয়া যায়, সেই পণ্য মেলার ভেতরে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ কারণে দর্শনার্থীরা মেলায় ঘোরাফেরা করেই বাড়িতে চলে যাচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, মেলায় তৃতীয় দিন হওয়ায় দর্শনার্থীর তেমন ভালো ছিল না। মেলার শুরুর দিকে প্রত্যাশার চেয়ে তিন গুণ দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে। এবার ইপিবি আগে থেকে স্টল বরাদ্দ দেওয়ায় সিংহভাগ দোকান আগেভাগেই নির্মাণ কাজ শেষ করে ফেলেছে। তবে এতো দর্শনার্থী থাকার পরও তাদের বেচাবিক্রি তেমন ভালো হচ্ছে না। বেচাবিক্রি কম হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে তারা মনে করছেন তীব্র শীত ও মালামাল নেওয়ার পরিবহন ঝামেলা। মেলার আসর ঢাকা থেকে দূরে হওয়ার কারণে অনেকে নেওয়ার ভোগান্তির কথা চিন্তা করে মালামাল কিনছেন না। এতো দর্শনার্থী থাকার পরও যদি বিক্রি ভালো না হয়, তাহলে তাদের অনেক লোকসান গুনতে হবে। পণ্যের গায়ে মূল্য বাড়িয়ে ট্যাগ লাগানো ব্যাপারে তারা বলেন, তারা এতো এতো টাকা দিয়ে মেলার ভেতরে দোকান বরাদ্দ নিয়েছেন। যদি কিছু টাকা বাড়িয়ে পণ্য বিক্রি না করেন, তাহলে তাদের অনেক লোকসান হবে।

সিয়াম নামে এক জুতা ব্যবসায়ী বলেন, তীব্র শীতের কারণে মেলায় অনেক দর্শনার্থী কিছুটা কম। যেসকল দর্শনার্থীই আসছেন তারাও পণ্য না কিনেই চলে যাচ্ছেন। বিক্রি কয়েকদিন পর থেকে বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

একটি ফার্নিচার কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি সাজিদ আহমেদ বলেন, দর্শনার্থীরা স্টলে প্রবেশ করে ফার্নিচার দেখে ঘোরাফেরা করে চলে যান। মেলায় মানুষ কেনার চেয়ে বেশি দেখতে আসেন। তীব্র শীত ও মেলা শুরুর দিকে দর্শনার্থীর সংখ্যা কম থাকে। দিন যত বাড়বে দর্শনার্থীর সংখ্যাও বাড়বে আশা করছেন তিনি।

আজান নামে এক কাশ্মীরি ব্যবসায়ী বলেন, অন্যান্য বারের চেয়ে পূর্বাচলের মেলা অনেক বেশি গোছানো হয়েছে। এবার শুরু থেকেই বেশিরভাগ স্টল নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছেন দর্শনার্থী আস্তে আস্তে আরও বাড়বে।

উত্তরা থেকে আসা ফারদিন রহমান নামে এক ব্যক্তি বলেন, তিনি এবারই প্রথম মেলায় ঘুরতে এসেছেন। তবে বাসার জন্য কিছু ফার্নিচার ও ইলেকট্রনিকস পণ্য কেনার ইচ্ছা ছিল। তবে মেলার প্রথম দিক হওয়ায় না কিনেই চলে যাচ্ছেন। পরে কয়েকদিন পর আবার এসে কিনে নিয়ে যাবেন।

টঙ্গী এলাকা থেকে আসা সুমাইয়া আক্তার জানান, তিনি ও তার স্বামী ঘুরতে এসেছেন। মেলায় কি কি পণ্য সামগ্রী উঠেছে তা তিনি দেখতে এসেছেন। পরে কয়েকদিন পর এসে কিনে নিয়ে যাবেন।

বাণিজ্যমেলার পরিচালক তরফদার সোহেল রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের কথা বলতে রাজি হননি।

Link copied!