পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ট্রাক্টর দিয়ে সরিষা ক্ষেত নষ্ট করে প্রায় ৩৭ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা এক একর জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে আব্দুল্লাহ মাসুদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের সোনাপোতা মৌজার ধানপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সোনাপোতা মৌজার ১৬২ নম্বর এসএ খতিয়ানের ৪৭০ নম্বর দাগভুক্ত এক একর জমিতে আব্দুল্লাহ মাসুদ দলবল নিয়ে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ দিচ্ছেন। ওই জমিতে প্রায় দেড় মাস বয়সী সরিষার চারা থাকলেও তা নষ্ট করে ভুট্টার বীজ বপন করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ মাসুদের বাবা আবুল হোসেন ১৯৭৭ সালে তার দুই মেয়ে আঞ্জুয়ারা বেগম ও ফাতেমা বেগমের নামে জমিটি ক্রয় করেন (দলিল নং-৩৩৭০)। পরবর্তীতে ফাতেমা বেগম তিনটি ভিন্ন দলিলের মাধ্যমে (১৯৮৯, ১৯৯২ ও ২০০৬ সালে) মোট ৬০.৫ শতক জমি আব্দুল কাদের গংদের কাছে বিক্রি করেন। আঞ্জুয়ারা বেগমও ১৯৯৬ সালে তার মালিকানাধীন সাড়ে ৬০ শতক জমি মাহাবুবুর রহমানের কাছে বিক্রি করেন, যা পরে আব্দুল কাদের গংদের কাছে হস্তান্তরিত হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ১৯৮৯ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে চারটি দলিলের মাধ্যমে মালিকানা অর্জনের পর আব্দুল কাদেরের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন।
এদিকে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ মাসুদের দাবি, তার বাবা ১৯৭৫ সালে রবিউল আলম নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেন। তিনি দাবি করেন, তারা ১৯৭৫ সাল থেকেই দখলে ছিলেন এবং ২০২৩ সালে দখলচ্যুত হন। তার ভাষ্যমতে, "২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। আদালতের কাগজপত্র পেতে দেরি হওয়ায় ১৩ জানুয়ারি চাষ দিয়ে দখল নিয়েছি।"
তবে অভিযোগকারীদের দাবি, আব্দুল্লাহ মাসুদের বাবার জীবদ্দশায় ওই জমির মালিকানা নিয়ে কখনো দাবি তোলা হয়নি। এমনকি ২০০৮ সালের ভূমি জরিপে আব্দুল মালেক গং মাঠ খতিয়ান পেলেও তখন আব্দুল্লাহ মাসুদ কোনো আপত্তি জানাননি।
জমি দখলকে কেন্দ্র করে গত বছরের ২৭ মে আব্দুল মালেক আদালতে মামলা করলে দেবীডুবা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা দীপালী রানী ৯ সেপ্টেম্বর সরেজমিন তদন্ত করেন। সে সময় জমিতে বাদামের আবাদ থাকলেও তিনি জমিটি 'পতিত' মর্মে প্রতিবেদন দেন, যার ভিত্তিতে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। এ বিষয়ে দীপালী রানী স্বীকার করেন যে, প্রতিবেদন দেওয়ার ক্ষেত্রে তার ভুল হয়েছে; প্রকৃতপক্ষে জমিটি আব্দুল মালেকের দখলেই ছিল।
ভুক্তভোগী আব্দুল মালেক বলেন, "দলিল অনুযায়ী আমরা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগ করছি। আদালত কোথাও জোরপূর্বক দখলের অনুমতি দেয়নি। অথচ তারা আমাদের ফলন্ত সরিষা ক্ষেত নষ্ট করে দখল নিয়েছে। এমনকি নালিশি জমির বাইরে আলাদাভাবে ক্রয় করা আরও সাড়ে ১৬ শতক জমিও তারা দখল করেছে।"
আপনার মতামত লিখুন :